বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

আন্তর্জাতিক

ঢাবিতে নেকাব পরা ছাত্রীর সঙ্গে যা ঘটেছিল, জানালেন ভুক্তভোগী ও সহপাঠীরা

ঢাবিতে নেকাব পরা ছাত্রীর সঙ্গে যা ঘটেছিল, জানালেন ভুক্তভোগী ও সহপাঠীরা...

ফ
ফাতেমা খানম· আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:১০ পিএমসর্বশেষ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:১০ পিএম
ঢাবিতে নেকাব পরা ছাত্রীর সঙ্গে যা ঘটেছিল, জানালেন ভুক্তভোগী ও সহপাঠীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মীয় পোশাকের কারণে শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ ওঠা শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছেন শিক্ষার্থীরা। নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগে ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে সব ধরনের ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এমতাবস্থায় ঘটনাটি সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মল্লিকা বলেন, ‘আমাদের একটি কোর্সের ক্লাস ছিল তাসনিম সিরাজ ম্যামের সঙ্গে। উনি ক্লাস শুরু করার একটা পর্যায়ে আমি ওনার ডেস্কের বামে বসেছি—ওনার সঙ্গে আমার দুবার আই কন্ট্যাক্ট হয়েছে। আমাদের আই কন্ট্যাক্ট হওয়ার পরে আমি একটু আনইজি ফিল করেছি, কারণ উনার সাথে আমার কিছু হিস্ট্রি আছে হিজাব-নিকাব সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, “থার্ড টাইম উনি যখন আমার দিকে তাকান, সরাসরি অ্যাড্রেস করে উনি বলা শুরু করেন যে, ‘মা, তোমাকে দেখে আমার আনকমফোর্টেবল ফিল হচ্ছে।’ এরপর উনি গ্র্যাজুয়ালি মুভ করেন যে আমি কেন এভাবে ড্রেসআপ করলাম, এটা কোন ফিকহে আছে, এটা ইসলামের কোথায় আছে। উনি বারবার রেফারেন্স দেন যে উনি হজ করে আসছেন, উনি সব জানেন এবং হজ করে যেহেতু আসছেন, ওখানে তো মুখ খুলে রাখাই যায়।”

তিনি বলেন, “এরপর উনি গ্র্যাজুয়ালি উনার কথাবার্তা মুভ করেন এবং করতে করতে একটা স্টেজে আমাকে বলেন যে, ‘তুমি এখানে বসে থাকলে আমার আনকমফোর্টেবল ফিল হচ্ছে, আমার আনসেফ ফিল হইতেছে। আমি চাচ্ছি যে তুমি ক্রাউডের মধ্যে গিয়ে বসো।’”

ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘এখন আমার কথা হচ্ছে, আমি যদি বামে থেকেও উনাকে আনসেফ ফিল করাইতে পারি, ডান থেকেও আনসেফ ফিল করাইতে পারি, তাহলে ক্রাউডের মধ্যে গিয়ে বসলেও তো উনি আনসেফ ফিল করতে পারেন। এরপরে আমি যখন... উনি আমাকে এই অফার করার পরে আমি ক্লাস থেকে বের হয়ে চলে আসি।

তবে বুধবারই প্রথম নয়, এর আগেও এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘লাস্ট আরেকটা ক্লাসে উনি আমাকে বলছিলেন, আমি যদি এভাবে মুখ ঢেকে চলি, তাহলে নিকাবটি খুলে দেওয়া হবে। উনি ডিরেক্ট এভাবে বলছেন। তার মানে, উনি বোঝাইতে চেয়েছেন যে উনার ক্লাসে উনি এটাই করতে চান, যেটা উনি করতে পারেন নাই ইভেনচুয়ালি।

তিনি বলেন, “এখন কথা হচ্ছে উনি টিচার হিসেবে যদি সামনে বসে ক্লাস নিতে পারেন, তাহলে আমি স্টুডেন্ট হিসেবে কেন ওখানে বসতে পারব না? ডিপার্টমেন্টে কোনো ভেরিফিকেশন, আইডেন্টিফিকেশনের কোনো ইস্যু নাই, তাহলে ওনার এত প্রবলেম কীসের? উনি এর আগেও আমাকে বলেছেন যে, ‘তোমাকে আমি জানি না তুমি কে।’ আমি উনাকে রিকুয়েস্ট করেছি, ম্যাম, আমি আপনার অফিস আওয়ারে আপনার সাথে দেখা করি, কথা বলি এবং আমি এটলিস্ট ফেস দেখাই, সমস্যা নাই তো। আমার কার্ড আছে আপনি দেখেন। রিকগনাইজ করেন। আমার ক্লাসমেটরাও আমাকে চেনে, ভাইবা বোর্ডেও আমাকে কোনো প্রবলেম করে না, সবাই আমাকে চেনে। তাহলে আপনার কীসের প্রবলেম?

উনি তখন রেগে গিয়ে বলছেন যে, ‘না, এটা সম্ভব না, আমি প্রতিদিন তোমাকে চেক করতে পারব না’—বলেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, এখানে বিষয়টা আসলে কোনো ইস্যু না যে উনি সাডেনলি এরকম ফিল করতেছেন, এটা একটা কন্টিনিউয়াস প্রসেস। বাংলাদেশে ইসলামোফোবিয়ার যে কন্টিনিউয়াস একটা প্রসেস দাঁড়ায়ে আছে, ওইটার উপরে দাঁড়ায়ে এসে ওনার বিজয়ী ঝান্ডা আর কি গেড়ে দিয়ে বলতেছেন যে, ‘আমি আমার ক্লাসে এটা প্রেফার করব না।’”

তিনি বলেন, ‘ইউনিভার্সিটি থেকে, ডিপার্টমেন্ট থেকে কোথাও থেকেই এটার কোনো ব্যাখ্যা নাই। যে তাদের তো ডিমান্ড নাই যে এরকম ড্রেসআপ করা যাবে না। কিন্তু প্রত্যেক বারই ওনার ক্লাসে এটা ইস্যু। যদি আমি ওনার চোখের সামনে থাকি, যেটা উনি ক্লিয়ারলি আমাকে আইডেন্টিফাই করতে পারতেছেন যে আমি এভাবে কাভার করে বসে আছি, তাহলেও ওনার ইস্যু হয় যে কেন আমি এভাবে কাভার করব, কেন চোখ কাভার করব, কেন হাত কাভার করব, কেন পা কাভার করব।

ইংরেজি বিভাগের ১৪তম ব্যাচের রাইসা মণি সুমি বলেন, ‘ম্যাম আসলে ইসলামবিরোধী কথাবার্তা রেগুলার ওয়েতে, মাঝে মাঝেই ক্লাসে বলেন। আমরা প্রতিনিয়ত ক্লাসে খেয়াল করি, সব সময় সূক্ষ্ম একটা ইসলামবিরোধী মনোভাব ওনার থাকে। উনি নিজেকে ঈমানদার দাবি করেন, আবার একইভাবে প্রতিনিয়ত ইসলাম নিয়ে অনেক কটূক্তি করেন। যেমনÑ পর্দা এরকম হওয়া উচিত না, ওই রকম হওয়া উচিত না, মাযহাব মানা উচিত না। আজকে যখন উনি ওনাকে (ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে) বলছিল, তখন আমি ম্যামকে বললাম, ম্যাম, ও তো মাযহাব মানে, এজন্য ও একটা নির্দিষ্ট মাযহাবের অধীন এভাবে পর্দা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘ম্যাম তখন রেগে বলল এভাবে এক্সপ্রেশন দিয়ে, অনেক জোরে জোরে যে ‘কোনো মাযহাব আমরা মানি না। কেন মানব? আমরা বেসিক পালন করব, জাস্ট ফলো হজ, নামাজ, রোজা, জাকাত। আমাদের আর কিছু মানার দরকার নাই।’ উনি এস্টাবলিশ করে দিচ্ছে যে আমরা কতটুক মানব। তারপর পোশাক নিয়ে আবারও বলল কতটুক মানব। তারপর আমি পোশাক নিয়ে ম্যামকে আবারও বললাম যে, ‘ম্যাম, ও যদি কমফোর্টেবল থাকে তাহলে সমস্যা কী?’ এখন ম্যাম আরো রেগে গেল, ‘তুমি কিভাবে ওকে সাপোর্ট করতে পারো? তুমি কিভাবে ওকে সাপোর্ট করতে পারো?’ এভাবে বলে আবারও পোশাক নিয়ে বলল।

এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে জঙ্গি এবং বোমা মারতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। সুমি বলেন, তারপর আবার আমি বললাম, ‘ম্যাম, আফগানিস্তানরা একভাবে পর্দা করে, ফিলিস্তিনরা আরেকভাবে পর্দা করে। এগুলোর তো লাইফস্টাইলের ভ্যারাইটি থাকতে পারে, এটা তো মানা উচিত।’ ম্যাম আমাকে আর কথা বলার সুযোগ দিলেন না। বললেন, ‘ও যদি জঙ্গি হয়, ও যদি বোমা মারে, তুমি কীভাবে ওকে সাপোর্ট করতে পারো?’ মানে ম্যাম আমাদেরকে আরো উস্কে দিচ্ছিল, যেন আমরা যেন ওকে সাপোর্ট না করি, ও যেন আলাদা কেউ এবং আমরা আলাদা কেউ।

তিনি আর বলেন, ম্যাম এটাও বলেছে, ‘তোমার পর্দা কই?’ আমি নিজেই ওর মতো পর্দা করতে চাই বা পছন্দ করি, কিন্তু সবাই তো সবরকম ইস্যুর জন্য সব করতে পারে না। আমি নিজেই এরকম করি এবং করতে চাই। সবারই নিয়ত থাকে যেন আরো ভালোভাবে পর্দা করি। কিন্তু ম্যাম এখানে একটা ইস্যু দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে, আমরা এতটুকু করতে পারব, অতটুকু করতে পারব না, মুখ দেখা যেতে হবে, হাত দেখা যেতে হবে। যখন ম্যাম এভাবে সফেস্টিকেটেড কথা বললেন, ধীরে ধীরে অনেকেই বেরিয়ে গেলাম।

অভিযুক্ত শিক্ষক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করেন সুমি। তিনি বলেন, উনি এখানে পলিটিক্যালি পাওয়ারফুল, এটা উনি ক্লাসে বলেছেন। ওনার কেউ কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, কেউ কিছু করতে পারবে না, এটাও উনি ক্লাসে বলেছেন। উনি আমাদেরকে কন্টিনিউয়াসলি থ্রেট দিয়েছেন। থ্রেট দেওয়ার কারণ এটাই যে উনি অনেক বেশি নার্সিসিস্ট। উনি ক্লাসের ৫০ মিনিটের মধ্যে ৪০ মিনিট ওনার ফ্যামিলির কথা বলে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ফ

ফাতেমা খানম

আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা

আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান সংবাদদাতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ