শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
২৪শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

ধর্ম ও জীবন

দুইবার প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পরও হাঁটছেন ক্রিস্টা পাইক

দুইবার প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পরও হাঁটছেন ক্রিস্টা পাইক...

ন
নাজমুল ইসলাম· বিশ্লেষক
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫৯ পিএমসর্বশেষ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫৯ পিএম
দুইবার প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পরও হাঁটছেন ক্রিস্টা পাইক

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ চেষ্টার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্রিস্টা পাইক সহায়তা নিয়ে হাঁটতে শুরু করেছেন এবং আবার খাবার খেতে পারছেন। তার আইনজীবীরা বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

৫০ বছর বয়সী পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর। ১৯৯৫ সালে সহপাঠী কলিন স্লেমারকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাকে পেন্টোবারবিটাল নামের প্রাণঘাতী ওষুধের দুটি ডোজ দেওয়া হলেও তার মৃত্যু হয়নি। বরং তার দুই হাত পুড়ে যায় এবং ফোসকা পড়ে।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রথম কয়েক দিন তিনি অচেতন ছিলেন এবং তাকে ভেন্টিলেটরের সাহায্যে শ্বাস নিতে হয়েছে। মঙ্গলবার তার জ্ঞান ফেরে এবং তিনি কথা বলতে সক্ষম হন। আইনজীবীরা জানান, বুধবার তিনি সীমিতভাবে হাঁটার চেষ্টা করেন। বৃহস্পতিবারও হাঁটার সময় তাকে অন্যের সহায়তা নিতে হয়েছে। পাশাপাশি তার হাতের নড়াচড়ার ক্ষমতাও ধীরে ধীরে ফিরছে।

তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও তার সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চিকিৎসকেরা এ পর্যায়ে ভবিষ্যৎ প্রভাব সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

পাইকের আইনজীবীরা বলেছেন, ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অভিজ্ঞতা তার ওপর গভীর মানসিক প্রভাব ফেলেছে। মৃত্যুর আশঙ্কা, যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। জ্ঞান ফেরার পর তাকে প্রথমে বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ দেখা গিয়েছিল বলে আইনজীবীরা জানান। বৃহস্পতিবারও তার মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি নিয়ে সমস্যা অব্যাহত ছিল।

আইনজীবীদের মতে, শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও এই ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি এখনো অজানা। তারা টেনেসির রিপাবলিকান গভর্নর বিল লির কাছে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানাতে চান। তাদের বক্তব্য, পাইককে যেন আরেকবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার মুখোমুখি হতে না হয়।

পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শিরায় ওষুধ প্রবেশ করানোর ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে ওষুধ রক্তপ্রবাহে না গিয়ে শরীরের টিস্যুতে জমা হয়ে থাকতে পারে।

পাইকের আইনজীবীরা আদালতে দাখিল করা নথিতে অভিযোগ করেছেন, ইনজেকশনের লাইন সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়নি—কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দলের সদস্যরা বিষয়টি শনাক্ত করতে পারেননি। তবে ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এখনো প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দেননি।

ঘটনার পর গভর্নর বিল লি চলতি বছরের জন্য নির্ধারিত অঙ্গরাজ্যের একমাত্র অন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়সূচি স্থগিত করেছেন এবং ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ঘটনার পর টেনেসির কারা বিভাগের প্রধানও পদত্যাগ করেছেন।

পাইককে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের পদ্ধতি, বন্দিদের চিকিৎসা এবং রাষ্ট্রীয় হেফাজতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ন

নাজমুল ইসলাম

বিশ্লেষক

রাজনৈতিক রিপোর্টার, বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ