শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা জয় দিয়েই করল পাকিস্তান। রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারীদের ৪ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। লাহিরু উদারার দুর্দান্ত ৯১ রানের পরও পাকিস্তানের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাতের ঝোড়ো অর্ধশতকে ৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। নাসিম শাহর প্রথম ওভারেই বিদায় নেন অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস। এরপর মোহাম্মদ ইমরানের বলে কামিল মিশারাও ফিরে গেলে চাপে পড়ে দলটি। তবে কামিন্দু মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন লাহিরু উদারা।
পাওয়ারপ্লেতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে এগিয়ে নেন উদারা। প্রথম ছয় ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান তোলে দলটি। কামিন্দু মেন্ডিস ১৮ বলে ২৩ রান করে ফিরলে ভাঙে তাদের জুটি। এরপর সাহান আরাচ্চিগেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
দাসুন শানাকাকে নিয়ে পালটা আক্রমণে নামেন উদারা। মাত্র ৩২ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। শানাকার সঙ্গে তার ৩৭ বলে ৬০ রানের জুটি শ্রীলঙ্কাকে বড় সংগ্রহের পথে রাখে। তবে শেষ দিকে আর কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা।
দলটির হয়ে ৫৫ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কায় ৯১ রান করে অপরাজিত থাকেন উদারা। পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে নাসিম শাহ ৩৬ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। মোহাম্মদ ইমরানের শিকার দুটি উইকেট।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাটিং করে পাকিস্তান। দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান দ্রুত রান তুলতে থাকেন। তবে ১৩ বলে চারটি চারে ২১ রান করে ঈশান মালিঙ্গার বলে আউট হন ফখর।
এরপর ক্রিজে এসে পালটা আক্রমণ চালান মাজ সাদাকাত। তার সঙ্গে অধিনায়ক ফারহানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ারপ্লের ছয় ওভারেই ৭০ রান তুলে নেয় পাকিস্তান। দুই ব্যাটারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ৯.২ ওভারেই দলীয় সংগ্রহ ১০০ ছুঁয়ে ফেলে। ৩৩ বলে ফিফটি তুলে নেন ফারহান, আর সাদাকাত অর্ধশতক পূর্ণ করেন মাত্র ২৮ বলে।
দুজনের ৯২ রানের জুটি ভাঙেন মহীশ থিকশানা। এরপর দুশমন্থ চামিরার শিকার হয়ে ফেরেন হাসান নওয়াজ। থিকশানার বলে সাইম আইয়ুবও বোল্ড হলে কিছুটা চাপে পড়ে পাকিস্তান। তবে ততক্ষণে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন ফারহান ও সাদাকাত।
শেষ দিকে খাজা নাফেকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের আরও কাছে নিয়ে যান পাকিস্তান অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত ৫৩ বলে ১০টি চার ও চারটি ছক্কায় ৮৯ রান করে অপরাজিত থাকেন ফারহান। তার দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ইনিংসে ভর করে ৭ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।


