ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যাগের আছে আলাদা স্থান। বিভিন্ন কার্যকারিতাসম্পন্ন বিভিন্ন ব্যাগের আবেদনও আলাদা; তবে নারী ও পুরুষ উভয়ের কাছে এখন নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে টোট ব্যাগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অফিসগামী তরুণ-তরুণী, এমনকি ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সারদের হাতেও দেখা যাচ্ছে টোট ব্যাগ।
অনুষঙ্গে ফ্যাশনের পাশাপাশি কার্যকারিতার গুরুত্ব বাড়ছে। এমনই জেন্ডার নিউট্রাল ও আরামদায়ক টোট ব্যাগ। ব্যবহারিক সুবিধা আর নান্দনিকতার মিশেলে এটি ধীরে ধীরে ফ্যাশন অনুষঙ্গ হিসেবেও জায়গা করে নিয়েছে। জেন্ডার নিউট্রাল ও আরামদায়ক টোট ব্যাগ এখন ট্রেন্ডের তুঙ্গে। নকশা, ম্যাটেরিয়াল আর আকৃতিতেও এসেছে ভিন্নতা।
টোট ব্যাগ সাধারণত বড় আকারের দুটি লম্বা হাতলযুক্ত একটি ব্যাগ। বেশিরভাগ টোট ব্যাগ ক্যানভাস, কটন, জুট কিংবা চামড়া দিয়ে তৈরি হয়। এর ভেতরে সাধারণত বড় একটি অংশ থাকে, যেখানে প্রয়োজনীয় অনেক কিছু রাখা যায়। এই সরল নকশাই টোট ব্যাগকে আলাদা করেছে। অতিরিক্ত চেইন, বাকলস বা জটিল অংশ না থাকায় এটি ব্যবহার করাও সহজ।
আজকাল লিঙ্গনিরপেক্ষ বা সর্বজনীন ফ্যাশনের প্রভাব পড়েছে ফ্যাশনের সব ক্ষেত্রে। টোট ব্যাগও এমন একটি জেন্ডার-নিউট্রাল ফ্যাশন পণ্য। একসময় মনে করা হতো, কাঁধে বা হাতে নেওয়া ব্যাগ শুধু মেয়েদের জন্যই। এছাড়া এক ব্যাগে ফ্যাশনের পাশাপাশি রোজকার প্রয়োজন মেটানোর হিসাবটাও ছিল আলাদা। তবে লিঙ্গনিরপেক্ষ ও আরামদায়ক ফ্যাশনের ধারা ব্যাগের ব্যবহারের ধরনের ক্ষেত্রে এখন অনেকটাই পরিবর্তন এনেছে।
টোট ব্যাগ মূলত আকারে কিছুটা বড় হয়ে থাকে। একে ওভারসাইজ্ড ব্যাগ বললেও একেবারে ভুল হবে না। চামড়া, কাপড়, ডেনিম, পাট ও সিনথেটিক উপকরণ দিয়ে টোট ব্যাগ তৈরি করা হয়। এ ছাড়া রিসাইকেল ফ্যাশনেরও অন্যতম অংশ হয়ে উঠেছে টোট ব্যাগ। সাদামাটা ডিজাইনের হয় বলে চাইলে নিজেও ফেলে রাখা উপকরণে তৈরি করে নেওয়া যায় এই ট্রেন্ডি ঝোলা ব্যাগ।
টোট ব্যাগের হাতল প্রথম দিকে ছোট রাখা হতো, যেন ব্যাগ হাতেই বহন করা যায়। তবে ফ্যাশনের ধারা বদলে ছোট থেকে হাতল হয়েছে মাঝারি। দেশি ফ্যাশন ব্র্যান্ড বাহ, কালিন্দি, যাত্রা, পটের বিবি, ব্যাগিটিউড ফ্যাশনেবল টোট ব্যাগ ডিজাইন করছে, যা তরুণদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।
টোট ব্যাগ ব্যবহারের সুবিধার জন্য তা জিপারসহ বা একেবারেই মুখ খোলা হতে পারে। প্রতিদিনের কেনাকাটায় বা অফিসে তো বটেই, স্টাইলিশ কুর্তি, টি-শার্ট বা কামিজের সঙ্গে যেকোনো অনুষ্ঠানেও এ সময়ে মানানসই হবে টোট ব্যাগ। এ বছর ওভারসাইজ্ড পোশাকের জনপ্রিয়তা বেড়েছে অনেকটাই। আর এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আকারে কিছুটা বড় ও সাধারণ ডিজাইনের ব্যাগের চাহিদাও বেড়েছে।
এ ছাড়া টোট ব্যাগ কিন্তু ভ্রমণেও বেশ কাজে দেয়। এক ব্যাগেই হয়ে যায় স্টাইল ও কাজ। যাত্রাপথের প্রয়োজনীয় মেকআপ বা ছোট কাপড় সহজেই নেওয়া যাবে টোট ব্যাগে। আবার যারা বাইরে বের হলে ব্যাগে পানির বোতল, নোট খাতা বা বই নিতে পছন্দ করেন, তাদের জন্যও টোট ব্যাগ সুবিধাজনক।
টোট ব্যাগের আকার ও ডিজাইন দুইই এমন যে তা নারী ও পুরুষ—উভয়ের ব্যবহারের উপযোগী। টোট ব্যাগের ব্যবহার নতুন নয়। তবে এর তুমুল জনপ্রিয়তা বেড়েছে হালে।
ফ্যাশন হাউস যাত্রায় ডিজিটাল প্রিন্টের ভিন্নধর্মী টোট ব্যাগ পাওয়া যাচ্ছে। আরামের জন্য ব্যাগের বাইরের অংশেও রাখা হয়েছে বাড়তি পকেট। এ ছাড়া একরঙা, প্যাচওয়ার্ক, হ্যান্ড পেইন্ট, ছাপসহ বেশ কয়েকটি মাধ্যমে ব্যাগে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ঢাকার রাস্তায় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, অনেক শিক্ষার্থীর কাঁধে টোট ব্যাগ। সকালে ক্লাস, দুপুরে লাইব্রেরি, বিকেলে ক্যাফে—একটি ব্যাগেই পুরো দিন পার করে দেওয়া যায়। অফিসগামীদের কাছেও এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যারা ল্যাপটপ, চার্জার, নোটবুক, পানির বোতলসহ বেশ কিছু জিনিস সঙ্গে রাখেন, তাদের জন্য টোট ব্যাগ একটি সুবিধাজনক বিকল্প। অনেকেই আবার ব্যাকপ্যাকের চেয়ে টোট ব্যাগকে বেশি স্টাইলিশ মনে করেন। কাঁধে ঝুলিয়ে সহজেই বহন করা যায় বলে এটি দৈনন্দিন ব্যবহারে স্বস্তিও দেয়। জনপ্রিয়তার কারণ জানতে চাইলে এক ক্রেতা জানান, তুলনামূলকভাবে কম দাম হওয়ায় আলাদা অনেক ডিজাইনের এই ব্যাগ কেনা যায়। সহজে অনেক জিনিস টোট ব্যাগে ক্যারি করা যায় এবং একই সঙ্গে এই ব্যাগ এখন খুব ফ্যাশনেবল।
টোট ব্যাগ কেনার সময় শুধু নকশা দেখলেই হবে না; কাপড়ের মান, সেলাই ও হাতলের শক্তিও গুরুত্বপূর্ণ। যদি নিয়মিত বই বা ল্যাপটপ বহন করেন, তাহলে একটু মোটা কাপড়ের ব্যাগ বেছে নেওয়া ভালো। কারণ পাতলা কাপড়ের ব্যাগে বেশি ওজন রাখলে দ্রুত ক্ষয়ে যেতে পারে। অনেক ব্যাগের ভেতরে ছোট পকেট থাকে, যেখানে ফোন, চাবি বা কার্ড রাখা সুবিধাজনক। কেনার আগে এসব বিষয়ও দেখে নেওয়া যেতে পারে।
ক্যানভাস টোট ব্যাগ নিয়মিত ব্যবহার করলে ধুলাবালি জমা স্বাভাবিক। তাই কিছুদিন পরপর পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। তবে ব্যাগে প্রিন্ট বা হাতে আঁকা নকশা থাকলে খুব জোরে ঘষে ধোয়া উচিত নয়। ব্যাগ ভিজে গেলে শুকিয়ে নেওয়া ভালো। দীর্ঘদিন ভেজা অবস্থায় থাকলে কাপড়ের ক্ষতি হতে পারে। আবার অতিরিক্ত ভারী জিনিস নিয়মিত বহন করলে হাতল ঢিলে হয়ে যেতে পারে।
টোট ব্যাগ বিভিন্ন দামে পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশের বাজারে সাধারণ ক্যানভাস টোট ব্যাগের দাম প্রায় ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। স্থানীয় অনেক অনলাইন পেজ, হস্তশিল্পভিত্তিক উদ্যোগ এবং ফ্যাশন ব্র্যান্ড বিভিন্ন ধরনের টোট ব্যাগ বিক্রি করে। হাতে আঁকা নকশা, এমব্রয়ডারি বা কাস্টম ডিজাইনের ব্যাগের দাম কিছুটা বেশি হতে পারে। চামড়ার টোট ব্যাগের ক্ষেত্রে দাম কয়েক হাজার টাকাও হতে পারে।



