সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় আহত চার বাংলাদেশিকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আজ রোববার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই তথ্য জানিয়েছেন।
গতকাল ওই হামলায় দুই বাংলাদেশির নিহত হওয়ার খবর জানা যায়। এ ছাড়া নিহত ১২ জনের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও সুদানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের শামা ওবায়েদ বলেন, কিং খালিদ হাসপাতালে আইসিইউতে থাকা ওই চার বাংলাদেশির পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে। নিহত দুজনের পরিচয় শনাক্তের কাজও চলছে। তাদের পরিবারের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে সরকার।
শামা ওবায়েদ জানান, হতাহতদের পরিচয় শনাক্তে দূতাবাস কর্মকর্তারা সৌদি সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদ ও জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনগুলো সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সৌদি আরবে অবস্থানরত অন্যান্য বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিষয়ক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
নিহতদের মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। সরকার নিজ খরচে মরদেহ দেশে আনবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার নিন্দা জানায় বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলেছে, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করে এবং বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হামলা অগ্রহণযোগ্য। এগুলো অবিলম্বে বন্ধ হতে হবে।
এ হামলার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সৌদি আরব সরকার এবং দেশটির সাধারণ মানুষের প্রতি দৃঢ় সংহতি জানিয়েছে।
আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে বাংলাদেশ অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।



