পাবনার বেড়া পৌর সদরে ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১৫টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে বেড়া বিবি পাইলট স্কুল মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছিল। রোববারের ম্যাচে বেড়া পৌরসভার ২ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খেলোয়াড়েরা অংশ নেন। নির্ধারিত সময়ে খেলা ১-১ গোলে ড্র হলে টাইব্রেকার নিয়ে পৌরসভার শান্নালপাড়া ও সাওদাগরপাড়ার লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এর জেরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তারা একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালান। এতে অন্তত ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার জানান, খবর পেয়ে সুজানগর থানা ও অন্যান্য ইউনিট থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনাল্ট চাকমা জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টুর্নামেন্টটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ চলছে।
আজ সোমবার সকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।



