শরতে দুর্গার আগমন ঘটে দ্বৈত রূপে। কাহিনী দুটি, অথচ সত্য একটিই।
মহিষাসুরমর্দিনী রূপে দুর্গা দশভুজা দেবী, যিনি মহিষাসুরকে বধ করেন। কিন্তু বাংলায় এই যোদ্ধা দেবীই আবার উমা। কৈলাসে স্বামী শিবের ঘর থেকে কয়েক দিনের জন্য মা-বাবার কাছে বেড়াতে আসা আদুরে এক মেয়ে।
মেয়ের ঘরে ফেরার এই ভাবনাই দুর্গাপূজাকে দিয়েছে এক স্বতন্ত্র আবেগময় মাত্রা। দেবী তার শক্তির জন্য পূজিত হন ঠিকই, তবে তাকে ঘিরে থাকে আরও গভীর এক অনুভূতি—মেয়ে হিসেবে তার ফিরে আসার প্রতীক্ষা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে তাকে বরণ করে নেওয়ার আনন্দ।
উমার আগমনের প্রতীক্ষা যেন শুরু হয় শব্দের মধ্য দিয়ে। ঢাক-ঢোলের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, ভক্তিগীতি এবং চণ্ডীপাঠ ও পবিত্র শ্লোকের উচ্চারণ উৎসবের আগমনী বার্তা দেয়। এসব শব্দ মানুষকে অজান্তেই টেনে আনে পূজার আচার-অনুষ্ঠানের কাছে।
মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেবীপক্ষ, দেবীর আরাধনার বিশেষ পক্ষ। একইসঙ্গে যা দুর্গাপূজার আগমনী বার্তাও বহন করে। আর মেয়ের ঘরে ফেরার অনুভূতি বিশেষভাবে প্রকাশ পায় আগমনী গানে। এসব গানে ফুটে ওঠে মা-বাবার প্রতীক্ষা, মেয়ের ফিরে আসার আনন্দ আর তাকে কাছে পাওয়ার আকুলতা।
অনেক বাঙালি হিন্দুর কাছে শরতের ভোরে সূর্য ওঠার আগেই শুরু হয় মহালয়া। অল ইন্ডিয়া রেডিও বা আকাশবাণীতে প্রচারিত বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ অনুষ্ঠান এই দিনের স্মৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
পুরান ঢাকার বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী কিরণবালা চৌধুরী শাঁখারীবাজারের শ্রীশ্রী রক্ষা কালীমন্দিরে মহালয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে সেই স্মৃতি তুলে ধরেন।সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় মহালয়া শুরু হতো বিছানায় শুয়ে রেডিওর অনুষ্ঠান শুনে। মহালয়ার ভোরে আকাশবাণীতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে “মহিষাসুরমর্দিনী” শুনে ঘুম ভাঙত আমাদের।
তিনি আরও বলেন, ‘তার কণ্ঠ, সঙ্গে ঢাক-ঢোলের আওয়াজ আর পাড়ার পূজামণ্ডপের উলুধ্বনি মিলে মহালয়ার সকালকে স্বাগত জানাত। আমরা সাজগোজ করে যোগ দিতাম সম্মিলিত স্তোত্রগানে—যেখানে ছিল আশা, আনন্দ আর মেয়ের বর্ণাঢ্য ঢংয়ে ঘরে ফেরার প্রতীক্ষা। আমাদের অনেকের কাছে দুর্গাপূজা ধর্মীয় উৎসবের চেয়ে বেশি সামাজিক মিলনমেলা হিসেবেই ছিল।
ধর্মীয় আচার আর পারিবারিক আবেগের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করে দুর্গাপূজা। যে দেবী সবচেয়ে শক্তিশালী, তাকেই আবার দেখা হয় মেয়ে ও মা হিসেবে।
চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবীর শক্তি ও সামর্থ্যকে আহ্বান করা হয়। যাতে জাতি, বর্ণ ও বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সবার মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে, আগমনী গানগুলো আবর্তিত হয় উমার বাপের বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে। এসব গানে উমার মা ‘মেনকা’র আকুলতা ফুটে ওঠে। তিনি মেয়েকে কাছে নিজের রাখতে চান। মেয়ের জামাই শিবের বাড়িতে ফেরত পাঠানোর কথা ভাবতেও তার কষ্ট হয়।
“এবার আমার উমা এলে, আর উমা পাঠাব না,বলে বলবে লোকে মন্দ, কারও কথা শুনব না।”
গানটির অর্থ—এবার উমা ঘরে এলে তাকে আর বিদায় দেব না। মানুষ যা-ই বলুক, কারও কথায় কান দেব না।
এই গানে দেবী দুর্গাকে নিয়ে আসা হয়েছে একান্ত পারিবারিক অনুভূতির জগতে। তার মায়ের আকুলতায় ব্যক্তিগত কোনো প্রত্যাশা নেই; বরং আছে মেয়েকে আরও কিছুদিন কাছে রাখার আকাঙ্ক্ষা। অশুভ শক্তিকে পরাজিতকারী দেবী দুর্গার আরাধনার পাশাপাশি এই আবেগও শারদীয় উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
পূজার প্রতিটি শব্দেরই রয়েছে নিজস্ব তাৎপর্য। শুভ মুহূর্তের সূচনা ঘোষণা করে শঙ্খধ্বনি। পূজার সময় বাজে কাঁসার ঘণ্টা। আর শুভ মুহূর্তে নারীদের কণ্ঠে উচ্চারিত উলুধ্বনি অনুষ্ঠানে যোগ করে সামষ্টিক আবেগের প্রকাশ।
সন্ধ্যার আরতিতে পূজার প্রদীপের সঙ্গে থাকে ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর অনেক জায়গায় ঢাকের বাদ্য। ঢাকিরা ছন্দের মধ্য দিয়ে পূজার আচার-অনুষ্ঠানের সময়ের জানান দেন। সেই ঢাকের সুর ছড়িয়ে পড়ে মণ্ডপের সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কেও।
দুর্গাপূজা মানেই নানা অনুভূতির সমাগম। পাড়ার মন্দিরে মাটির প্রতিমা গড়ে উঠতে দেখা, শিউলি ফুলের গন্ধ নেওয়া আর দেবী এবার নৌকা, হাতি না পালকিতে আসবেন—তা নিয়ে কৌতূহল, এ সবই উৎসবের জন্য মিষ্টি অপেক্ষার অংশ।
মহালয়ার ভোরে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ তার কাছে ছিল সেই অপেক্ষার শেষাংশ। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের আবৃত্তি, বিশেষ করে ‘আশ্বিনের শারদপ্রাতে’ দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান, আর ‘বাজলো তোমার আলোর বেণু’ গানটি মহালয়ার সকালকে ঘরের চেনা আবহে বেঁধে রাখত।
তবে বাঙালির স্মৃতিতে গভীরভাবে জায়গা করে নেওয়া এই অনুষ্ঠানের ইতিহাস আরও বিস্তৃত।
দেবী ও মহিষাসুরের যুদ্ধের কাহিনীকে কেন্দ্র করে আকাশবাণীর প্রথম দিকের অনুষ্ঠানগুলো থেকেই এর সূত্রপাত। বাণীকুমার—যার প্রকৃত নাম বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য, লিখেছিলেন এর চিত্রনাট্য। সংগীত রচনা ও পরিচালনা করেছিলেন পঙ্কজ কুমার মল্লিক। আর বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র তার বাচনভঙ্গি ও সংস্কৃত মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে হয়ে ওঠেন এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে পরিচিত কণ্ঠ।
অনুষ্ঠানটিকে শুধু চণ্ডীপাঠের অনুষ্ঠান হিসেবে ভাবলে ভুল হবে। বরং ধর্মগ্রন্থের বাণী, বাংলায় বর্ণনা, গান, সমবেত কণ্ঠ ও যন্ত্রসংগীতের সমন্বয়ে এটি হয়ে উঠেছিল এক অনন্য পরিবেশনা।
১৯৩২ সালে ‘বসন্তেশ্বরী’ নামে একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। এরপর আসে দুর্গাকে কেন্দ্র করে সংগীতনির্ভর একটি আয়োজন। ১৯৩৩ সালের মহালয়ায় প্রচারিত হয় ওই অনুষ্ঠানের একটি সংস্করণ। পরবর্তী বছরগুলোতে এর পরিমার্জন ও বিকাশ ঘটে। ১৯৩৭ সালে এটি পরিচিতি পায় ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ নামে।
অর্থাৎ, আজ যে রেকর্ডিং বাঙালির কাছে এত জনপ্রিয়, তা শুরু থেকেই কোনো একক অনুষ্ঠান ছিল না। বরং ধারাবাহিক সংশোধন ও সংগীত নিয়ে নানা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে এর বর্তমান রূপ তৈরি হয়েছে।
অনুষ্ঠানটির শুরুতেই থাকে সংস্কৃত ভাষায় চণ্ডীর বন্দনা। সেখানে মধু ও কৈটভের মতো অসুরদের বধ এবং মহিষাসুরকে পরাজিতকারী দেবীর প্রশস্তি করা হয়। আনুষ্ঠানিক মন্ত্রপাঠের পর শোনা যায় বাংলা গান। এর মধ্যে অন্যতম—‘বাজলো তোমার আলোর বেণু’।
গানটির কথা লিখেছেন বাণীকুমার, সুর করেছেন পঙ্কজ কুমার মল্লিক এবং সুপরিচিত রেকর্ডিংটিতে শোনা যায় সুপ্রীতি ঘোষের কণ্ঠ।
পৃথিবীজুড়ে দেবীর দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ার যে চিত্র গানটিতে ফুটে ওঠে, তা অনুষ্ঠানটির ধর্মীয় বন্দনা অংশ থেকে দেবীকে স্বাগত জানানোর আবহ, তথা পরের ধাপে নিয়ে যায়।
আরেকটি পরিচিত গান ‘জাগো দুর্গা, জাগো দশপ্রহরণধারিণী’। দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গাওয়া এই গানে দশ অস্ত্রধারী ও শক্তিদাত্রী দুর্গাকে জাগ্রত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র কোনো পুরোহিত নন, তিনি ছিলেন বেতারের ঘোষক ও নাট্যকর্মী। তার মেপে বলা কথা, বিরতি দেওয়ার ধরন এবং গম্ভীর অনুরণিত কণ্ঠ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অনুষ্ঠানটির সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে।
বর্ণনা, মন্ত্রপাঠ ও সংগীতের সম্মিলিত প্রভাবে এমন এক শব্দজগৎ তিনি তৈরি করতে সমর্থ হয়েছেন, যা এখনো বহু শ্রোতার কাছে দুর্গাপূজা শুরুর খুব পরিচিত ও আবেগী সংকেত।
বেতারের এই অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বাণিজ্যিক রেকর্ডের মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল দুর্গাপূজার মৌসুমি গানের আলাদা ঐতিহ্য।
১৯৩০-এর দশক থেকেই বিভিন্ন রেকর্ড কোম্পানি শরতের উৎসব উপলক্ষ্যে গান প্রকাশ করতে শুরু করে। পরবর্তী কয়েক দশকে এই ধারার জনপ্রিয়তা আরও বাড়ে। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, মান্না দে, লতা মঙ্গেশকর ও আশা ভোঁসলের মতো শিল্পীদের গান দুর্গাপূজার মৌসুমি আবহের সঙ্গে জড়িয়ে যায়।
এসব গান পূজার সামাজিক জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে মহালয়ার ভোর চিহ্নিত হতে থাকে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ দিয়ে।
বাংলাদেশেও মহালয়া ও দুর্গাপূজার প্রতিটি শব্দের রয়েছে ধর্মীয় তাৎপর্য; পাশাপাশি এগুলো বাঙালির সাংস্কৃতিক বর্ষপঞ্জিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে হিন্দুরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হলেও দুর্গাপূজা তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দিরে মহালয়ার অনুষ্ঠানে থাকে চণ্ডীপাঠ, শঙ্খধ্বনি, মন্ত্রোচ্চারণ, ভক্তিগীতি এবং পূর্বপুরুষদের স্মরণে তর্পণ। তবে স্থানভেদে অনুষ্ঠানের ধরন ও সময়সূচিতে পার্থক্য দেখা যায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ৯০ বছর বয়সী নবকান্ত মাস্টার এখনো নিজের পারিবারিক বাড়িতে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। তিনি জানান, তাদের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে চণ্ডীপাঠের জন্য পাঠক নিয়োগের রীতি রয়েছে। তবে প্রার্থনার সময় জানাতে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রয়োজন পড়ে না। ভোরে মাইকে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের রেকর্ড করা কণ্ঠ শুনলেই শত শত গ্রামবাসী মন্দিরে জড়ো হন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষদের রীতি অনুসরণ করে আমরা সব সময় চণ্ডীপাঠের আয়োজন করে আসছি। কিন্তু একটি মাত্র মন্দির থাকা এই গ্রামে ভোরে মাইকে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠ বাজানো হলে শত শত মানুষ জড়ো হন। তারা এই কণ্ঠের সঙ্গেই বেশি পরিচিত। সরাসরি পাঠের আয়োজন করলে সীমিতসংখ্যক মানুষকে যুক্ত করা যায়; কিন্তু মানুষ ফিরে আসে সেই পরিচিত, ঘরোয়া আবহের কাছে। এ কারণেই আমরা দুই ধরনের আয়োজনই রাখি।
রেকর্ড করা অনুষ্ঠান ও সরাসরি চণ্ডীপাঠের ভূমিকা আলাদা হলেও একে অন্যের পরিপূরক। পরিচিত কণ্ঠ মানুষকে আকৃষ্ট করে, আর সরাসরি পাঠের মধ্য দিয়ে বজায় থাকে ধর্মীয় আচার পালনের ঐতিহ্য।
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অ্যাডভোকেট তাপস পাল বলেন, ‘দুর্গা ও কালীপূজাসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আয়োজনে চণ্ডীপাঠের জন্য প্রায়ই বিশেষজ্ঞ পাঠকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে মন্দির ও উপলক্ষ্য অনুযায়ী পুরোহিতেরাও চণ্ডীপাঠ করতে পারেন। মণ্ডপ ও মন্দিরভেদে এ আয়োজনের ধরন আলাদা হয়।
পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজারের মতো এলাকা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলেও এ উৎসব ছড়িয়ে পড়ে জনপরিসরে।
শহরের নানা প্রান্তের নাগরিকরা খোলা মণ্ডপে ঘুরে বেড়ান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেখেন, নাড়ু-মোয়ার ভাগ করে খান। এসবই শারদীয় উৎসবের বৃহত্তর সামাজিক উপস্থিতির অংশ। তবে সম্প্রদায় ও সামাজিক পরিসরভেদে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা সব জায়গায় এক রকম নয়।
মানুষের শোনার ধরন বদলেছে। অনেক বাড়িতেই রেডিওর জায়গা নিয়েছে টেলিভিশন, অনলাইন রেকর্ডিং আর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। তারপরও প্রতি মহালয়ায় ফিরে আসে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’র সেই চেনা ধ্বনি। মন্দিরে ঢাকের প্রথম বোল, শঙ্খধ্বনি আর চণ্ডীপাঠ এখনো জানান দেয়—দুর্গাপূজা আসছে।
রমনা কালীমন্দিরের সহসভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থার উপপরিচালক উত্তম কুমার সরকার বলেন, ‘ঢাকের প্রথম বোলই মা দুর্গাকে স্বাগত জানানো আর উৎসবের আগমনী বার্তা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এসব শব্দ-সংগীতের মধ্য দিয়ে আমরা নারীশক্তির সম্মিলিত উদযাপনের কথা জানান দেই।
ঢাক, শঙ্খধ্বনি ও চণ্ডীপাঠ—দুর্গাপূজার সঙ্গী হওয়ার চেয়েও বেশি কিছু। এগুলো দেয় উৎসবের আগমনী বার্তা, মানুষকে করে একত্রিত। সেইসঙ্গে মেয়ের ঘরে ফেরার চিরন্তন গল্পকে সুর ও ধ্বনিতে করে তোলে জীবন্ত।
এভাবেই পরিচিত অথচ স্বতন্ত্র নানা অনুষঙ্গে দুর্গাপূজা হয়ে ওঠে সবার জন্য উন্মুক্ত এক অনন্য উৎসব, যার মূল উপজীব্য—আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।
কৃষিনির্ভর জীবন, পারিবারিক বন্ধন, বহুত্ববাদ আর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এমন উৎসবের আবহ শুধু বাংলা ভূখণ্ডেই সম্ভব।



