বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬
২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

মাকে খুন করা সেই ছেলে আটক

মাকে খুন করা সেই ছেলে আটক...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৪ পিএমসর্বশেষ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৪ পিএম
মাকে খুন করা সেই ছেলে আটক

কুড়িগ্রামে মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মা খুন হয়েছেন। বাবাকেও গুরুতর জখম করেছে সে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের পলাশবাড়ি এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর ঘাতক ছেলে পালিয়ে গেলেও দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের হরিকেশ বাউদিয়াছড়া থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।

কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও প্রতিবেশীরা জানান, ওই এলাকার সরদার আলীর দুই ছেলের মধ্যে মুক্তাকিন আলম শোভন (৩৪) ছোট। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাদকে আসক্ত ও মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। চিকিৎসার জন্য তাকে সিরাজগঞ্জ মাদকাসক্তি পরামর্শ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। প্রায় আড়াই মাস আগে তাকে বাড়িতে আনা হয়। কিছুদিন ভালো থাকার পর তিনি আবারও অস্বাভাবিক ও হিংস্র আচরণ শুরু করেন। এ কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে আবারও সিরাজগঞ্জের ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হলে তাদের একটি দল ঘটনার দিন ভোর ৪টার দিকে কুড়িগ্রামের বাসায় এসে পৌঁছায়।

বাড়িতে পুনর্বাসন কেন্দ্রের লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন শোভন। মা পারুল বেগম ছেলেকে শান্ত করতে গেলে তিনি চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। এরপর হঠাৎ পকেট থেকে ছুরি বের করে মায়ের বুকে একের পর এক উপর্যুপরি আঘাত করেন। এ সময় বাবা সরদার আলী স্ত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে এসে ছেলেকে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবাকেও ছুরিকাঘাত করেন শোভন। এরপরই তিনি দ্রুত বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

পরে পুনর্বাসন কেন্দ্রের কর্মী ও প্রতিবেশীরা গুরুতর আহত পারুল বেগম ও সরদার আলীকে অটোরিকশায় করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পারুল বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে গুরুতর আহত সরদার আলীর অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পরপরই কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সাঁড়াশি অভিযানে নামে। বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের হরিকেশ বাউদিয়াছড়া এলাকা থেকে ঘাতক ছেলে শোভনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।

প্রতিবেশী রুহুল আমিন, মমিনুল ইসলাম মঞ্জু ও আনোয়ার হোসেন জানান, শোভন মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। সিরাজগঞ্জ পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখার পর কিছুটা সুস্থ হলেও পুরোপুরি ভালো হয়নি। সন্তানকে কাছে রাখার ইচ্ছায় রিহ্যাব থেকে তাকে বাসায় এনেছিল পরিবার। অথচ সেই প্রিয় সন্তানের হাতেই প্রাণ দিতে হলো মাকে। আহত বাবার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মোত্তালিব জানান, শোভনের হিংস্র আচরণের কারণে তার বড় ভাই আগেই বাড়ি ছেড়ে আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। এলাকার লোকজনও তার ভয়ে আতঙ্কিত ছিল। ছেলে নিজের গর্ভধারিণী মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ করবে, তা কেউ ভাবতেই পারছে না।

সিরাজগঞ্জ মাদকাসক্তি পরামর্শ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শাহ সুলতান আহমেদ জানান, পরিবারের অনুরোধে আমরা সিরাজগঞ্জ থেকে ভোর ৪টার দিকে সরদার আলী ভাইয়ের কুড়িগ্রামের বাসায় যাই। সেই সময় শোভন বন্ধ ঘরে গান শুনছিলেন। আমাদের ৪ জনের দলটি ফজরের নামাজের পর ড্রয়িংরুমে বসে অপেক্ষা করছিল। সকাল ৬টার দিকে আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সে দরজা খুলে বাইরে এসে শৌচাগার ব্যবহার করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার মা পারুল বেগম ছুটে গিয়ে ছেলেকে আটকাতে গেলে তিনি বারান্দায় এসে দ্রুত টিপতালা দিয়ে দরজার লক আটকে দেন। এরপর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পকেট থেকে ধারাল ছুরি বের করে মায়ের বুকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। তা দেখে শোভনের বাবা লাঠি দিয়ে তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে বাবাকেও ছুরিকাঘাত করেন। বারান্দার দরজা বন্ধ থাকার কারণে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ভেতরে ঢুকতে পারিনি।

কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, ঘাতক শোভনকে আটক করা হয়েছে। নিহত পারুল বেগমের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ