বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
২৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

মসজিদে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারধর

মসজিদে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারধর...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৮ পিএমসর্বশেষ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৮ পিএম
মসজিদে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারধর

নেত্রকোনার একটি মসজিদে ঢুকে এক মাদ্রাসাশিক্ষক ও পাঁচ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তি ও তার তিন ছেলের বিরুদ্ধে। বুধবার ভোরে সদর উপজেলার চল্লিশা পূর্ববাজার জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকালে মসজিদ কমিটি, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ মিছিল এবং প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। এ সময় নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়ক অবরোধ করায় কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে সন্ধ্যায় এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মারধরের শিকার শিক্ষক হাফেজ সাইফুল ইসলাম চল্লিশা বাজার কেন্দ্রীয় হাফেজিয়া মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। তিনি কলমাকান্দা উপজেলার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

আহত পাঁচ শিক্ষার্থী হলো—কলমাকান্দার শুনাই এলাকার মো. তানভীর, সদর উপজেলার সিংহের বাংলা এলাকার শহিদুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম এবং বাগড়া এলাকার মাহবুবুর রহমান ও জাকিরুল ইসলাম। তাদের প্রত্যেকের বয়স ১৪-১৫ বছর।

স্থানীয় বাসিন্দা, মসজিদ কমিটি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চল্লিশা হাফেজিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন চল্লিশা পূর্ববাজার জামে মসজিদের জায়গা দান করেন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হামিদ। তিনি মসজিদ কমিটির সাবেক সভাপতি। আজ ভোরে ফজরের নামাজের পর মসজিদে শিক্ষার্থীদের তালিম দিচ্ছিলেন শিক্ষক সাইফুল ইসলাম।

এ সময় আব্দুল হামিদ তার তিন ছেলে শাহীন, মোবারক ও মোশারফকে নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করেন। তারা শিক্ষককে সেখানে পড়ানো বন্ধ করতে বলেন। এ নিয়ে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে আব্দুল হামিদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আব্দুল হামিদ ও তার ছেলেরা শিক্ষককে মারধর শুরু করেন। শিক্ষার্থীরা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

মসজিদসংলগ্ন এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ফজরের নামাজের পর শিক্ষক শিক্ষার্থীদের তালিম দিচ্ছিলেন ও জিকির করছিলেন। এ সময় আব্দুল হামিদ ও তার ছেলেরা এসে শিক্ষককে মসজিদের পরিবর্তে মাদ্রাসায় গিয়ে পড়ানো ও জিকির করার কথা বলেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন।

ঘটনার প্রতিবাদে বিকাল ৫টার দিকে চল্লিশা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন। একপর্যায়ে তারা সড়কে বসে অবরোধ করলে কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

মাদ্রাসার মুহতামিম মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা আব্দুর রহিম রুহী, ইসলামী ঐক্যজোটের জেলা সভাপতি মাফিজ উদ্দিন তালুকদার, হেফাজতে ইসলামের সদর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবু সায়েম ওসংবাদমাধ্যম ওলামা সদর উপজেলা সভাপতি মাওলানা সাফায়েত আকন্দসহ অন্যরা।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের জানান, সন্ধ্যার দিকে শিক্ষক সাইফুল ইসলামের বাবা গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আব্দুল হামিদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ