রোমার মাঠে ফিরে স্মরণীয় রাত কাটালেন জোসে মরিনিও। শেষ ৮ মিনিটে তিন গোল করে রিয়াল মাদ্রিদ বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে ৪-৩ গোলে জিতেছে।
২০ মিনিটে রোমাকে এগিয়ে দেন মার্তেন দে রুন। ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শট থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে জালে ঢোকে। তার আগে মারিও এরমোসোর শটে কোর্তোয়াকে আঙুলের ডগায় ঝাঁপিয়ে বল ফেরাতে হয়। দে রুনের গোলের পর ডনিয়েল মালেনের জোরালো শট কোর্তোয়ার নিচ দিয়ে গলে যায়। তবে গোলরেখা থেকে বল কুড়িয়ে নেন কোর্তোয়া।
এর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই রোমা এক ভুলের মাশুল দেয়। এরমোসো একটি বল কাটতে গিয়ে ভুল করেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে ফাঁকা পথ পেয়ে যান। তার শট গিয়ে আছড়ে পড়ে জালে। রিয়ালের প্রথম সুযোগেই গোলটি আসে। বিরতির আগে মার্ক কুকুরেইয়া ও জুড বেলিংহ্যামও গোলের কাছে যান, তবে গোল আর পাননি।
এটি ছিল এমবাপ্পের চ্যাম্পিয়নস লিগে ১০০তম ম্যাচ। ২৭ বছর বয়সে তিনিই এই মাইলফলকে পৌঁছানো সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়। এই গোল ছিল টুর্নামেন্টে তার ৭২তম। এতে তিনি রিয়ালের কিংবদন্তি রাউল গনজালেসকে ছাড়িয়ে সর্বকালের সেরা পাঁচে ঢুকে পড়েছেন।
রোমা কোচ জিয়ান পিয়েরো গাসপেরিনি আগেই বলেছিলেন, প্রতিপক্ষ যে-ই হোক, তারা পূর্ণ গতির ফুটবল খেলবেন। বিরতির পর তিনি কথা রেখেছেন। বিরতির পর বদলি নামা রদ্রিগো মোরা বল বাড়ান মালেনকে। মালেন প্রথম ছোঁয়ায় বল নিয়ন্ত্রণে নেন। দ্বিতীয় ছোঁয়ায় কোর্তোয়ার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান। রোমা আবার এগিয়ে যায়।
ছয় মিনিট পর মালেন আবার গোল করেন। একটি থ্রু বলে ছুটে গিয়ে তিনি জোরালো শট নেন। প্রথমে অফসাইডের পতাকা উঠেছিল। ভিএআর দেখে গোল দেওয়া হয়। রিয়াল জবাব খুঁজছিল। এমবাপ্পে দুবার পিয়েরলুইজি গোলিনিকে পরীক্ষা নেন। তার দ্বিতীয় গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
খেলার শেষ দিকে কর্নার থেকে বদলে যায় ম্যাচ। কর্নারের পর হেডে ফিরে আসা বল কাছ থেকে জালে পাঠান কার্লোস এসপি। ব্যবধান কমে ২-৩। এর দুই মিনিট পর আরেকটি কর্নার থেকে হেডে গোল করেন এন্ড্রিক। ম্যাচ ৩-৩ হয়ে যায়। ৯০তম মিনিটে শেষ আঘাত হানেন রোমার সাবেক ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার। মার্কারকে পেছনে ফেলে তিনি কাছ থেকে বল জালে পাঠান। রিয়াল ৪-৩ গোলে জিতে নেয়। স্তম্ভিত হয়ে পড়ে স্তাদিও অলিম্পিকো।
রোমার সমর্থকেরা মরিনিওকে ব্যানার ও স্লোগানে সম্মান জানান। আড়াই বছর রোমার দায়িত্বে থাকার সময় তিনি দলকে উয়েফা কনফারেন্স লিগের শিরোপা জেতান। ইউরোপা লিগের ফাইনালেও তুলেছিলেন। সাত বছরের বেশি সময় পর এটি ছিল রোমার ঘরের মাঠে প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচ।
এই জয়ে লিগ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে রিয়ালের পয়েন্ট ছয়। রোমার পয়েন্ট এক।



