সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর সার্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মন্দিরে দেড় লাখের বেশি দিয়াশলাইয়ের (ম্যাচ) কাঠি ও ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা দিয়ে তৈরি দুর্গা প্রতিমা থেকে দিয়াশলাইয়ের কাঠি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার মধ্যে কাঠিগুলো সরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে মন্দিরটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসক জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে চিঠি এসেছে। সরকারি নির্দেশনা পালন করা সবার দায়িত্ব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ম্যাচের কাঠি অপসারণ না করলে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।
প্রতিমা তৈরির সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, দিয়াশলাইয়ের কাঠি সরিয়ে প্রতিমাটি নতুনভাবে সাজানো যেতে পারে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে অহেতুক জটিলতা বা ব্যক্তিগত অহমের বিষয় তৈরি করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্দিরের প্রতিমার পোশাক ও অলংকারে দেড় লাখের বেশি দিয়াশলাইয়ের কাঠি এবং ১০ কেজির বেশি রেশমি সুতা ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এ প্রতিমা দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়।
প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার ভারতের একটি মন্দিরে এ ধরনের কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সাতক্ষীরায় দিয়াশলাইয়ের কাঠি ও রেশমি সুতা দিয়ে প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেন বলে আগের প্রতিবেদনে জানিয়েছিলেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, শিল্পীদের পারিশ্রমিকসহ প্রতিমাটি তৈরিতে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়েছে।
পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় দিয়াশলাইয়ের কাঠি অপসারণের নির্দেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন আয়োজকেরা। তাদের দাবি, দিয়াশলাইয়ের কাঠির বারুদ অপসারণের পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রতিমাটি পরিদর্শন করেছিলেন। আগুনের ঝুঁকি মোকাবিলায় মণ্ডপে বালু ও পানি রাখা হয়েছিল। এ বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকারও দিয়েছিলেন তারা।
মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবার রাতেই প্রতিমা থেকে দিয়াশলাইয়ের কাঠি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবারের মধ্যে কাঠিগুলো সরিয়ে প্রতিমাটি নতুনভাবে সাজিয়ে প্রস্তুত করার কাজ চলছে।
পরিদর্শনকালে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবুল হাসেম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত, সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট মন্দির ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



