কুড়িগ্রামের রৌমারীতে আলোচিত জোড়া খুনের মামলায় দীর্ঘ ২০ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে আব্দুল মমিন নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চার আসামিকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. জয়নাল আবেদীন এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তারিকুর রহমান তারিক এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
রায়ে আব্দুল মমিনকে (৫২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অন্যদিকে আমিনুল ইসলাম (১৯), সিদ্দিক বলী (৩৬), সফিকুল ইসলাম (২৫) ও আবু বক্করকে (৩০) তিন বছর করে কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
খালাস পাওয়া চার আসামি হলেন- মাইদুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন, হোসেন আলী ও হাসেন আলী।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ রিপোর্ট অনুসারে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর রৌমারী সদরের কাশিয়াবাড়ি গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় জালাল উদ্দিন (৫৫) এবং তার ভাতিজা খলিলুর রহমান (২০) নিহত হন। এ ঘটনায় নিহত জালাল উদ্দিনের ছোট ভাই মো. আব্দুর রউফ বাদী হয়ে রৌমারী থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়। মারামারির ঘটনার তিন দিন পর ৩০ অক্টোবর জালাল উদ্দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। আর ভাতিজা খলিলুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ২০০৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি।
বাদী ও বিবাদী উভয়ে কাশিয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তারিকুর রহমান তারিক।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট তারিকুর রহমান তারিক বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর এ মামলার রায় হয়েছে। এ রায়ের ব্যাপারে আমি সন্তুষ্ট। রায়ের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।



