সুরে সুরে মিলে গেল দুই বাংলা। ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (আইজিসিসি) এক মায়াবী সন্ধ্যায় ফিরে এলেন লতা মঙ্গেশকর, কিশোর কুমার ও মান্না দে। সঙ্গীত জগতের এই তিন চিরভাস্বর নক্ষত্রের স্মৃতিতে আয়োজিত ‘স্মরণ সন্ধ্যা’ যেন এক টুকরো নস্টালজিয়া উপহার দিল উপস্থিত শ্রোতাদের। সুরের জাদুতে আরও একবার মুছে গেল কাঁটাতারের সীমানা, ঢাকা আর কলকাতা এক হয়ে গেল একই আবেগে।
ভারতীয় হাইকমিশন এবং ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি)-এর যৌথ উদ্যোগে বৃহস্প্রতিবার সন্ধ্যায় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে ‘এ মিউজিক্যাল ইভনিং উইথ লিজেন্ডস’ (কিংবদন্তিদের নিয়ে সঙ্গীত সন্ধ্যা) শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রখ্যাত ভারতীয় শিল্পী লতা মঙ্গেশকর, কিশোর কুমার ও মান্না দের স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভারতীয় সংগীতে তাদের অবদান এবং ভারত ও বাংলাদেশের শ্রোতাদের মাঝে তাদের ব্যাপক জনপ্রিয়তাকে উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার শ্রী পবন কুমার বাধে এই তিন শিল্পীর সঙ্গীত-ঐতিহ্য এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের জনপ্রিয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের ওপর আলোকপাত করেন এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে সঙ্গীত ও শিল্পকলা বিনিময়ের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের শিল্পী সমরজিৎ রায় ও অনুপমা মুক্তি সঙ্গীত পরিবেশন করেন। তারা এই তিন কিংবদন্তি শিল্পীর জনপ্রিয় অন্তত্য ১৫টি গান দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন।
ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাংলাদেশি কণ্ঠশিল্পী সমরজিৎ রায়, কিশোর কুমার ও মান্না দের গাওয়া বেশ কিছু গান পরিবেশন করেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতে সুপরিচিত প্লেব্যাক গায়িকা অনুপমা মুক্তি, লতা মঙ্গেশকরের গাওয়া জনপ্রিয় কিছু গান পরিবেশন করেন। এছাড়া, সমরজিৎ রায় ও অনুপমা মুক্তি একটি দ্বৈত গানও পরিবেশন করেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন একদল প্রতিভাবান যন্ত্রশিল্পী। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রবীণ শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সারা দেশ থেকে আগত সঙ্গীতানুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।



