কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের সময় প্রাণ বাঁচাতে দোতলা থেকে পাশের নালায় লাফ দেন এক ব্যক্তি ও তার স্ত্রী। এ সময় তারা দুজনেই আহত হন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালের দুর্ঘটনার পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান এ দম্পতি। পরে সেখানে পর্যাপ্ত বার্ন ইউনিটের সুবিধা নাই দেখে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন।
আগুন থেকে বেঁচে ফেরা ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, রিসোর্টে অবস্থানরত অনেকের বেঁচে থাকা নিয়ে তারা শঙ্কিত। আমি ও আমার স্ত্রী রিসোর্টের দোতলা থেকে পাশের নালায় লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচেছি। তারপর সদর হাসপাতালে এসেছি। রিসোর্টে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জনের বেশি মানুষ ছিলেন।
তার ভাষ্য, আমার জানামতে, আমরাসহ এখন পর্যন্ত নয়জন সেখান থেকে জীবিত বের হতে পেরেছি। বাকিরা সম্ভবত মারা গেছেন। আমাদের পাশের একজনের তিনটি বাচ্চাই মারা গেছে।
রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রিসোর্টের যারা আছেন, তারা আদৌ বেঁচে আছেন কি না, জানি না। আমরা তাদের কাউকেই দেখিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ায় মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন সাতজন।
উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার শনিবার বেলা ১১টার দিকে জানান, রিসোর্টটিতে ২৭ জন প্রবেশের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে নয়জন রিসোর্টের বাইরে ছিলেন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, হতাহত ব্যক্তিরা সবাই পর্যটক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে।



