সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

তথ্যপ্রযুক্তি

এআই চ্যাটবটের প্রতি ঝুঁকছে শিশুরা: যেভাবে সুরক্ষায় সচেতন হবেন অভিভাবকেরা

এআই চ্যাটবটের প্রতি ঝুঁকছে শিশুরা: যেভাবে সুরক্ষায় সচেতন হবেন অভিভাবকেরা...

ত
তানভীর আহমেদ· প্রযুক্তি সম্পাদক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ এএমসর্বশেষ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ এএম
এআই চ্যাটবটের প্রতি ঝুঁকছে শিশুরা: যেভাবে সুরক্ষায় সচেতন হবেন অভিভাবকেরা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুরা শিক্ষা কিংবা সামাজিক দক্ষতার নানা চর্চা করলেও, দিনে দিনে একটি বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অনেক শিশু বাবা-মা বা নির্ভরযোগ্য প্রাপ্তবয়স্কদের বদলে মানসিক ও আবেগঘন সমর্থনের জন্য এআই চ্যাটবট ও অ্যাসিস্ট্যান্টদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের কমিশনার ক্রিসি ব্যারেটের মতে, চ্যাটবট কখনো মানুষের সত্যিকারের সমর্থনের বিকল্প হতে পারে না। সম্প্রতি অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশু অনলাইনে যৌন নিপীড়ন বা অন্য কোনো সমস্যার শিকার হলে হয় এআই চ্যাটবটের কাছে পরামর্শ চায়, নয়তো কাউকেই কিছু বলে না।

অস্ট্রেলিয়ায় ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী যে শিশুরা এআই ব্যবহার করে, তাদের প্রায় অর্ধেকই ব্যক্তিগত ও সামাজিক প্রয়োজনে এর দ্বারস্থ হয়। এর মধ্যে রয়েছে সংবেদনশীল বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া, মনের ভাব প্রকাশ করা কিংবা নিছক সময় কাটানো।

মানুষ ছেড়ে কেন এআই-এর কাছে যাচ্ছে শিশুরা?

যেকোনো সময়ে দ্রুত প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার সুবিধা থাকায় অভিভাবক বা বন্ধুদের অবর্তমানে শিশুরা এআই-এর প্রতি ঝুঁকছে।

বড়দের মতোই তরুণ প্রজন্মও প্রযুক্তির নানা সম্ভাবনা নিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চায়।

বেড়ে ওঠার বয়সে মনে নানা সংবেদনশীল প্রশ্নের জন্ম নেয়। অনেক বিষয়ে অভিভাবক বা বন্ধুদের কাছে বলতে লজ্জা বোধ করায় তারা এআই-কে মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়।

যে শিশুরা সামাজিকভাবে একা বা পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের ঘাটতিতে ভুগছে, তাদের মধ্যে এআই সঙ্গী খোঁজার প্রবণতা বেশি। ২০২৫ সালের এক ডেনিশ গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের একাকীত্বই তাদের এআই-এর সাথে সম্পর্ক তৈরির মূল কারণ।

এআই ব্যবহারে শিশুরা কী কী হারাচ্ছে?

বাস্তব সম্পর্কের অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হওয়া: এআই সব সময় ব্যবহারকারীর কথামতো মিষ্টি কথা বলে ও সম্মত থাকে। বাস্তব মানুষের সম্পর্কের যে স্বাভাবিক ওঠানামা থাকে, এআই-এর সাথে আলাপে তা থাকে না। এতে শিশুর সম্পর্ক সম্পর্কিত বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাহত হয়।

সঠিক তথ্যের অভাব: এআই-এর পক্ষে একটি শিশুর জীবনের পুরো পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব নয়। বাবা-মা বা অভিভাবকরাই তাদের বয়স ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক পথপ্রদর্শন করতে পারেন।

পারিবারিক বন্ধন শিথিল হওয়া: প্রশ্ন বা সমস্যার উত্তর এআই-এর কাছ থেকে নেওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়মিত কথা বলা বা সংযোগের ছোট ছোট মুহূর্তগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।

১. একসঙ্গে এআই ব্যবহার ও পরখ করুনসন্তানের সাথে বসে বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করে দেখুন। এআই-কে জিজ্ঞেস করুন "তোমার কি অনুভূতি আছে?" কিংবা "তুমি কি চিন্তা করতে পারো?"। এ ছাড়া এআই-এর তথ্য যাচাই করার জন্য "এআই-এর ভুল ধরা" গেম খেলতে পারেন, যেখানে এআই কোনো ভুল তথ্য দিলে পয়েন্ট পাওয়া যাবে।

এআই ব্যবহারের সময় সন্তানকে প্রশ্ন করুন:মানুষ যা করতে পারে, এআই কি তা পারে?এআই ভুল বললে কীভাবে তা যাচাই করবে?তোমার দেওয়া তথ্য এআই কীভাবে ব্যবহার করে বলে মনে করো?

এই কথোপকথনগুলোর মাধ্যমে সন্তান এআই-এর ইতিবাচক ব্যবহারের পাশাপাশি এর সীমাবদ্ধতা ও গোপনীয়তা সম্পর্কিত ঝুঁকি বুঝতে পারবে।

কঠিন বা জটিল বিষয়ে এআই-এর বদলে আপনার কাছে আসতে সন্তানকে উৎসাহিত করুন। সন্তান যখন কোনো সংবেদনশীল প্রশ্ন করবে, তখন বিচারকের ভঙ্গিতে না গিয়ে কৌতূহল নিয়ে শুনুন। আগে থেকেই উপদেশ না দিয়ে ধৈর্য ধরে তাদের কথা শুনলে তারা নিজেদের কথা প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে।

এআই প্রযুক্তি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই অভিভাবকদেরও এই প্রযুক্তি সম্পর্কিত সঠিক তথ্য রাখা এবং সতর্ক থাকা জরুরি।

ফরজ সুন্নাত নামাজ পড়ার সময় বেশির ভাগ সময় চোখ বন্ধ করে রাখা প্রসঙ্গে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ত

তানভীর আহমেদ

প্রযুক্তি সম্পাদক

প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান বিভাগের সম্পাদক।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ