রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
৩ঠা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

নির্মাণের ছয় মাসেই দেড় কোটি টাকার বেড়িবাঁধে ধস, খালে গাইডওয়াল

নির্মাণের ছয় মাসেই দেড় কোটি টাকার বেড়িবাঁধে ধস, খালে গাইডওয়াল...

স
সুমিত রয়· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৩ পিএমসর্বশেষ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
নির্মাণের ছয় মাসেই দেড় কোটি টাকার বেড়িবাঁধে ধস, খালে গাইডওয়াল

নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কারণে এমন পরিস্থিতি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বরগুনা সদর উপজেলার পোটকাখালী আশ্রয়ণ প্রকল্পের উত্তর পাশে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত রিং বেড়িবাঁধটি ছয় মাসের মাথায় বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়েছে। বাঁধের গাইডওয়ালও ভেঙে খালে পড়েছে। নির্মাণকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের কারণে এমন পরিস্থিতি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও গাইডওয়াল খালে পড়ে থাকার চিত্র দেখা যায়। দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস প্রকল্পের আওতায় বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) অর্থায়নে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগী ছিল স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা জাগোনারী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী দূর থেকে ৪০ শতাংশ মাটি পরিবহণের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। বরং পাশের খাল খনন করে সেই মাটি দিয়েই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বাঁধের পাশের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় ৬৫০ মিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে ৬২৮ মিটার নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ইব্রাহিম বলেন, ভেবেছিলাম, নতুন রাস্তা হয়েছে, এখন কষ্ট কমবে। কিন্তু সেই কষ্টই রয়ে গেল। বৃষ্টির সময় কাদামাটি দিয়ে রাস্তার কাজ করায় মাটি ধুয়ে নেমে যায়। এ কারণে বাঁধ ও গাইডওয়াল অল্প সময়ের মধ্যেই ধসে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা খালেক হাওলাদার বলেন, জাগোনারীর যথাযথ তদারকির অভাবে নির্মাণকাজের মান খারাপ হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দেয়।

জাগোনারীর প্রধান নির্বাহী হোসনে-আরা হাসি সাংবাদিকদের বলেন, এ কাজটি আমরা যৌথভাবে করেছি। কিন্তু অতিবৃষ্টির কারণে বেড়িবাঁধটি ভেঙে যায়। পাশে আমরা একটি গাইডওয়ালও দিয়েছিলাম। সেটিও ভেঙে গেছে। এই বেড়িবাঁধটি করার আগে আমার নামে একটি মামলাও হয়েছিল। সেখানে আমাকে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। তাছাড়া ঠিকাদার কর্তৃক আমাদের ৫ পার্সেন্ট সিকিউরিটি মানি নেওয়া আছে। সেখানে প্রায় সাত লাখ টাকা জমা রয়েছে। সামনে একটি বর্ষা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটি কমলেই ঠিকাদাররা কাজটি করে দেবে।

ঠিকাদার মো. মিল্টন বলেন, নকশায় ত্রুটি থাকায় বাঁধটি ধসে পড়েছে। বর্ষা মৌসুম শেষ হলে মেরামতের কাজ করা হবে।

বরগুনা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, তদারকির জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে জাগোনারী কমিটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করলেও তদারকির জন্য কখনো ডাকেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ বলেন, বৃষ্টি কমলে ঠিকাদার বাঁধটি মেরামত করে দেবেন বলে জাগোনারী জানিয়েছে। নির্মাণকাজে অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
স

সুমিত রয়

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ