রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
৩ঠা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

নাসরিনের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল

নাসরিনের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৫ পিএমসর্বশেষ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৫ পিএম
নাসরিনের শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল

নিহত নাসরিন আক্তার মুক্তা।

কক্সবাজারের ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের একজন সাভারের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯)। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া শিখিয়ে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল তার। চেয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের প্রিয় শিক্ষকদের একজন হয়ে থাকতে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। প্রিয় এই শিক্ষিকার মৃত্যুর খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিচিতজন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

পড়াশোনা শেষ করে নাসরিন সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার নিরিবিলি এলাকায় অবস্থিত ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বপ্নবিলাস ইউনাইটেড স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

নাসরিন সাভার ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি এবং সাভার মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার) থেকে স্নাতক এবং গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ছয় বছর আগে ফয়সাল দেওয়ানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।

ঘুরে বেড়ানো ছিল নাসরিনের শখ। অনেক দিন ধরেই বান্ধবীদের সঙ্গে ভ্রমণে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু সময় ও সুযোগের অভাবে তা হয়ে উঠছিল না। এবার দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিতে সেই ইচ্ছা পূরণে তিন বান্ধবী মিলে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ভ্রমণই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ যাত্রা।

গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ওই রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় নাসরিনের দুই বান্ধবী আইরিন জাহান মীম ও ইমা রহমান রিসোর্টের কক্ষ থেকে বেরিয়ে কয়েক গজ দূরে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে পুরো রিসোর্টে।

চোখের সামনে আগুন ছড়িয়ে পড়তে দেখে তারা কয়েকবার জোরে চিৎকার করে প্রিয় বান্ধবী নাসরিনকে ডাকেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অসহায় অবস্থায় চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়া ছাড়া তাদের আর কিছুই করার ছিল না।

নাসরিনের বাবা মোস্তফা কামাল সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার। তার মা নাছিমা আক্তার খুশী। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে নাসরিন ছিলেন বড়। তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল আশুলিয়ার বাসিন্দা এবং ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ