সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

ফ্যাসিস্ট আমলে সনাতনীরা নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেননি

ফ্যাসিস্ট আমলে সনাতনীরা নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেননি...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩২ পিএমসর্বশেষ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
ফ্যাসিস্ট আমলে সনাতনীরা নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেননি

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেননি। চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের দিন কাটত। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলা ও সহিংসতার আতঙ্কে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তটস্থ থাকতেন বলে দাবি করেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গাপূজার অষ্টমীতে কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌর সদরের শ্রীশ্রী গোপীনাথ জিউর আখড়া, উত্তর সতানন্দী, সাহাপাড়া এবং সুন্দলপুর ও গোয়ালমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে পৃথক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, দুর্গোৎসবকে আনন্দময় ও নিরাপদ করতে বর্তমান সরকার আন্তরিক। নিষিদ্ধ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের সহিংসতা প্রতিরোধে পুরো এলাকা কঠোর নজরদারিতে রাখতে সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছে। পূজারিদের নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে উৎসব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএনপির সংবিধানে সংখ্যালঘু বলতে কোনো শব্দ নেই। জাতিসত্তার পরিচয় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সনাতন ধর্মাবলম্বী, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ সবাই সমান অধিকার ভোগ করবেন।

তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সংখ্যালঘু তকমা দিয়ে তাদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। পূজামণ্ডপে হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দুর্গাপূজাকে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব উল্লেখ করে খন্দকার মারুফ বলেন, এটি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ ও সত্যের বিজয়ের প্রতীক। দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি মিলন ও সম্প্রীতির উৎসব। দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির পতনের মতো সমাজ থেকেও অন্যায়, ভেদাভেদ ও অকল্যাণ দূর হোক, এমন প্রত্যাশা করেন তিনি।

তিনি বলেন, মহালয়া থেকে দশমী পর্যন্ত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পূজামণ্ডপগুলো সম্প্রীতি ও মিলনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। সবাইকে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে সকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দাউদকান্দি পৌর সদরে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন খন্দকার মারুফ হোসেন।

এ সময় তিনি বলেন, এডিস মশার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব ও ছাদবাগান পরিষ্কার রাখতে হবে। ডেঙ্গুর মতো ভয়াবহ রোগ থেকে সুরক্ষায় সামাজিক সচেতনতার বিকল্প নেই।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও মশক নিধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদ আহমেদ, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম. এ. লতিফ ভূঁইয়া, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, বিএনপি নেতা পিটার চৌধুরী, আবদুস সাত্তার, কাউসার আলম সরকার, আরিফ মাহমুদ ও শরীফ চৌধুরীসহ অনেকে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ