সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

এক সপ্তাহে নদীগর্ভে ১৭ পরিবারের বসতভিটা, কাঁচা ধান কাটছেন কৃষকরা

এক সপ্তাহে নদীগর্ভে ১৭ পরিবারের বসতভিটা, কাঁচা ধান কাটছেন কৃষকরা...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএমসর্বশেষ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
এক সপ্তাহে নদীগর্ভে ১৭ পরিবারের বসতভিটা, কাঁচা ধান কাটছেন কৃষকরা

ভাঙনের মুখে জমির কাঁচা-পাকা ধান কাটতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কৃষকেরা।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি ও খেদাইমারী গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ১৭টি পরিবারের বসতভিটা। একই সঙ্গে তলিয়ে গেছে বিঘার পর বিঘা আমন ধান, ভুট্টা ও শাকসবজির ক্ষেত। ভাঙনের মুখে জমির কাঁচা-পাকা ধান কাটতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কৃষকেরা। ঝুঁকি নিয়ে ধান কাটার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরেই এই এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫০০ পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে গৃহহীন হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ছয়-সাত মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেললেও সেগুলো নদীগর্ভে চলে গেছে। সঠিক তদারকি ও স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা না থাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

চর শৌলমারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনছার আলী তুহিন জানান, গত এক সপ্তাহে তার ওয়ার্ডের সুখেরবাতি এলাকায় সাতটি এবং পাশের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খেদাইমারী গ্রামে ১০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সুখেরবাতি এলাকার দেলোয়ার, নজরুল ইসলাম, রুপচান, আয়শা খাতুন, ছোবহান ও লালু শেখ রয়েছেন।

খেদাইমারী এলাকায় কপিল উদ্দিন, আফছার আলী, হাতেম, কদম আলী, আব্দুল খালেক, মহর উদ্দিন, সিরাজুল, জমসের আলী ও আক্কাস আলীর বাড়িও ভাঙনের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া চরে নতুন করে বাড়ি করা আরও দুই ব্যক্তির বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে।

বসতভিটার পাশাপাশি কৃষিজমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন কৃষকেরা। ইউপি সদস্য আনছার আলী তুহিন জানান, সুখেরবাতি এলাকার ইউনুছ মোল্লার দেড় বিঘা আমন ধানের জমির পুরোটাই নদীতে চলে গেছে। ছবুর প্রামাণিকের চার বিঘা জমির মধ্যে এক বিঘা এবং জমসের আলীর বসতভিটাসহ তিন বিঘা ধানি জমি বিলীন হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জমসের আলী বলেন, আমাগো বাড়িভিটাসহ তিন বিঘা জমি নদীতে গেছে। অহন আমি কী করুম! ধারদেনা করি মানুষের জমিতে ঘর উঠাইছি।

চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এইচ এম সাইদুর রহমান বলেন, সুখেরবাতি, খেদাইমারী ও সোনাপুর এলাকায় ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ব্লকের কাজ না হওয়ায় জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। আগে ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো সরকারি আর্থিক সহায়তা পেলেও এখন তা বন্ধ রয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নতুন করে ঘর তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জরুরি কাজের জন্য বর্তমানে কোনো বাজেট বরাদ্দ নেই। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ