মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
৫ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

চাঁদা হিসেবে দিতে হবে অর্ধেক জমি, নয়তো টাকা!

চাঁদা হিসেবে দিতে হবে অর্ধেক জমি, নয়তো টাকা!...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ এএমসর্বশেষ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
চাঁদা হিসেবে দিতে হবে অর্ধেক জমি, নয়তো টাকা!

জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি, এরপর সেই জমি ঘিরে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি। টাকা না দিলে জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের মহেশখালীর বড় মহেশখালী এলাকার কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মাহমুদুল্লাহ ও তার পরিবারের অভিযোগ, জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে হলে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া পুলিশের উপস্থিতিতে বিরোধ মেটানোর বৈঠকেও জমির বাজারমূল্যের অর্ধেক টাকা, নয়তো জমির অর্ধেক ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন মাহমুদুল্লাহ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তিন দফায় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তার। সম্প্রতি তাদের চলাচলের রাস্তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে ভুক্তভোগী মাহমুদুল্লাহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ফকিরাঘোনা এলাকার মৌলভী আনছুর আলী পাড়ায় এসব ঘটনা ঘটেছে।

অভিযুক্তরা হলেন- স্থানীয় ছাবের মিয়া, মোস্তাক মিয়া, জসিম উদ্দিনসহ কয়েকজন। তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগে জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মকছুদু আলম নিরু ও তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নেজাম উদ্দিনের নামও এসেছে। তবে চাঁদাবাজি বা কাউকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিরু।

মাহমুদুল্লাহর দাবি, খতিয়ানভুক্ত জমিটি তাদের কেনা সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে তারা সেখানে বসবাস করছেন এবং গাছপালা লাগিয়ে ভোগদখল করছেন। কিন্তু ছাবের গংরা তাদের জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণসহ কোনো কাজ করতে দিচ্ছেন না। এ নিয়ে কয়েকবার মহেশখালী থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।

তার অভিযোগ, থানায় পুলিশের উপস্থিতিতে বৈঠক হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি। বরং জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে হলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। টাকা না দিলে সেখানে কোনোভাবেই ঘর তুলতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। তিনি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের পরিবারের ওপর তিন দফায় হামলা চালানো হয়।

সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর বিকাল ৫টার দিকে বন্দুক, দা ও কিরিচ নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন মাহমুদুল্লাহ। এতে তার বাম হাতের কবজি ভেঙে যায়। তার ৪৮ বছর বয়সি ছোট ভাই রহমত উল্লাহর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার কানের পর্দা ফেটে গেছে বলেও দাবি পরিবারটির। হামলায় বাড়িঘর ও বেড়া ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। আহতদের কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

মাহমুদুল্লাহর অভিযোগ, বিরোধ মেটানোর কথা বলে জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মকছুদু আলম নিরুর পিএস নেজাম উদ্দিন পুলিশের উপস্থিতিতে জমির বাজারমূল্যের অর্ধেক টাকা, না হলে জমির অর্ধেক ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন। এ কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নেজাম উদ্দিন বলেন, মূলত ছাবের গংরা আমাকে বিরোধ মেটানোর জন্য টাকার কথা বলতে বলেছিল। আমি তাদের হয়ে বলেছি। আমার নিজের কোনো দাবি-দাওয়া নেই।

মকছুদু আলম নিরু বলেন, আমি মূলত তাদের হয়ে থানায় যাইনি। তারা আমার কাছে এসেছিল। আমি চাঁদাবাজি করেছি বা তাদের আশ্রয় দিয়েছি, এমন প্রশ্নই ওঠে না। বরং আমি বিরোধটি মেটানোর চেষ্টা করেছি।

জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ছাবের ও তার লোকজন জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করেন এবং চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করেন।

ছাবের গংরা যে স্ট্যাম্প দেখিয়ে জমির মালিকানা দাবি করে মাহমুদুল্লাহর কাছে চাঁদা চেয়েছেন বলে অভিযোগ, সেটিতে আমান উল্লাহ ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমান উল্লাহ বলেন, আমার বাবা আবদু রশিদসহ মালিকদের কাছ থেকে জমি কেনা হয়েছে। সেখানে আমরা কীভাবে ছাবের গংদের স্ট্যাম্প দেব? তারা এটি জাল তৈরি করেছে। বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য ছাবেরদের সঙ্গে বসতে চাইলে তারা সালিশে আসে না, পালিয়ে বেড়ায়।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ছাবেরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে এর আগেও একই ধরনের একটি ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে আর টাকা দাবি করবেন না বলে ছাবের প্রতিবেদককে আশ্বাস দিয়েছিলেন। ওই কথোপকথনের একটি রেকর্ডও প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

মহেশখালী থানার ওসি মো. আব্দুস সুলতান বলেন, সালিশ বৈঠকে ছাবের পক্ষ বিরোধপূর্ণ জমির বিষয়ে একটি স্ট্যাম্প দেখিয়েছে। অন্যদিকে মাহমুদুল্লাহর রেকর্ডে খতিয়ানভুক্ত জমির মালিকানা রয়েছে। তারা পরস্পর আত্মীয় হওয়ায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। এরপরও এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমি পুলিশ পাঠিয়ে তাৎক্ষণিক তাদের উদ্ধার করেছি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা এখনো এজাহার দেননি। এজাহার দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ