নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। হতাহতদের অর্ধেকের পরিচয় পাওয়া গেছে। অন্যদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক ও ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরআদপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে সোহেল রানা (৪০), বাগমারা উপজেলার কনোপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে আনোয়ারুল হক (৩০), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের মৃত শহীদুল ইসলামের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮), শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের জহরউদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৪০), একই উপজেলার ডুবি সাহাপুর গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ (৩০) এবং জাহান উদ্দিন মোল্লার ছেলে আব্দুস সালাম মোল্লা (৪৬)।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন শরীয়তপুরের আলমগীর মাতবর (৫৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জের আব্দুস সালাম (৩৫), শিবগঞ্জের ওয়াহিদ আলী (২২), মাদারীপুরের নাইম তালুকদার (২০), নার্গিস আক্তার (৩৫), বরগুনার জেসমিন আক্তার (৩৫), নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার চিরঞ্জিত কুমার (২৫), মান্দা উপজেলার মানিক হোসেন (৩৭) ও শাহাজুল ইসলাম (৩৬) এবং লক্ষ্মীপুরের রাকিব হোসেন (২৫)। অন্যান্য হতাহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বলেন, বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে শরীয়তপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী যাত্রীবাহী বাস আরপি স্পেশালের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নয়জন নিহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও পাঁচজন মারা যান। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
নাটোর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আক্তার হামিদ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নাটোরের স্থানীয় হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসের ভেতরে অনেক যাত্রী আটকে পড়ায় উদ্ধারকাজ চালাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের বেগ পেতে হয়। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাসের আহত যাত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর এলাকার রমজান আলী বলেন, ট্রাকটি তার সঠিক লেনেই ছিল। বাসের চালক উলটো লেনে গিয়ে ট্রাকের সামনে ধাক্কা দিয়েছেন। সম্ভবত আমাদের বাসের চালক ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনা এবং দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি সড়কের ওপর থাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয়দের প্রচেষ্টায় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর বড়াইগ্রামের রেজুর মোড়ে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত হন। সেই শোকাবহ ঘটনার ১২ বছর পূর্তির দিনেই আবারও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল।



