ঝিনাইদহের মহেশপুরে ঘুমন্ত জামাতাকে ধারালো কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুরের বিরুদ্ধে। হত্যার পর ব্যবহৃত কুড়ালটি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বলিভদ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শ্বশুর তরিকুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত গোলাম রহমান পাশের কালীগঞ্জ উপজেলার নাইড়িপাড়া গ্রামের ক্বারী গোলাম হুদার ছেলে। অভিযুক্ত তরিকুল ইসলাম একই গ্রামের গাজী রহমানের ছেলে।
জানা গেছে, দুই বছর আগে তরিকুল ইসলামের বড় মেয়ে হাজেরা খাতুনের সঙ্গে গোলাম রহমানের বিয়ে হয়। স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকায় ঘটনার আগের রাতে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন গোলাম রহমান। সকালে হাজেরা খাতুন ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে গোলাম রহমান ওই ঘরেই ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় তরিকুল ইসলাম ধারালো কুড়াল দিয়ে ঘুমন্ত জামাতার ঘাড়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই গোলাম রহমানের মৃত্যু হয়।
হত্যার পর তরিকুল ইসলাম হত্যায় ব্যবহৃত কুড়ালটি নিয়ে ঘুরে বেড়ান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সাত্তার জানান, তরিকুল ইসলামের আগে থেকেই মানসিক সমস্যার কথা জানা ছিল। একসময় তাকে মানসিক হাসপাতালে রাখা হয়েছিল। তবে কী কারণে তিনি জামাইকে হত্যা করেছেন, তা জানা যায়নি।
মহেশপুর থানার ওসি ইমরান আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। নিহতের লাশ ও হত্যায় ব্যবহৃত কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আগে থেকেই শ্বশুর ও জামাতার মধ্যে মনোমালিন্য ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।



