বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
৬ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

এক পরিবারে বাবা-মেয়ের মৃত্যু, মা ও ছেলে হাসপাতালে

এক পরিবারে বাবা-মেয়ের মৃত্যু, মা ও ছেলে হাসপাতালে...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২২ পিএমসর্বশেষ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২২ পিএম
এক পরিবারে বাবা-মেয়ের মৃত্যু, মা ও ছেলে হাসপাতালে

স্কুল ছুটি, তাই শিশু তাসফিয়া (৮) আর লাবিব (১০) বায়না ধরেছিল খালার বাড়িতে বেড়াতে যাবে। নিজেদের কর্মস্থল ব্যাংকও ছুটি থাকায় তাদের বায়না মেটাতে ছেলে, মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে রাজশাহীতে বড় বোনের বাসায় বেড়াতে যাচ্ছিলেন রুবিনা আক্তার (৩৬)। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছা হলো না তাদের। পথে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন তার স্বামী ও মেয়ে। রুবিনা ও তার ছেলে লাবিব হাসানও (১০) গুরুতর আহত হন।

এ সময় তাসফিয়ার কোলে থাকা তার শখের বিড়ালটিও মনিবের সঙ্গেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এক নিমেষে শেষ হয়ে গেলো তাদের সাজানো সংসার।

রুবিনাকে এখনো জানানো হয়নি তার স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর খবর। মঙ্গলবার ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হন।

বনপাড়া হাইওয়ে থানায় লাশ নিতে আসা নিহত শহিদুল ইসলামের ভাগ্নি জামাই মমিনুর রনি জানান, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি গ্রামের শহীদুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা খাতুন পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালি শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। আর শহীদুল ইসলাম ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখার ম্যানেজার ছিলেন।

কিছুদিন আগে তারা দুজনেই ওমরাহ করে এসেছেন। দুর্ঘটনায় শহীদুল (৪০) ও তাদের মেয়ে তাসফিয়া খাতুন (৮) মারা গেছেন। তাসফিয়া তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল, আর ছেলে লাবিব পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে।

রুবিনার দুলাভাই রাজশাহীর পাঠানপাড়া এলাকার বাসিন্দা শহিদুর রহমান ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা। তিনি খবর পেয়ে সকাল ১১ টার দিকে স্ত্রীসহ নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি লাবিব আর তার মা রুবিনার চিকিৎসার জন্য আসেন। এ সময় তিনি জানান, পূজার ছুটি কাটাতে সন্তানদের নিয়ে পটুয়াখালী থেকে রওনা হন রুবিনা। পথে মাগুরা থেকে একই বাসে ওঠেন তার স্বামী। ভোরে তাদের রাজশাহীতে পৌঁছার কথা ছিল। কিন্তু দেরি হওয়ায় খোঁজ নিতে গিয়ে দুর্ঘটনার খবর জানতে পারেন। তিনি আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, তারা পূজার ছুটিটা আমাদের বাসায় কাটাতে চেয়েছিলো। কিন্তু একটা দুর্ঘটনায় সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেল, জীবনটাও এলোমেলো হয়ে গেলো।

হাসপাতালের শয্যায় ব্যথায় কাতরাচ্ছে রুবিনা আক্তার। এর মধ্যেও বারবার জানতে চাইছে তার স্বামী ও মেয়ে কোথায়। কিন্তু স্বামী শহিদুল ইসলাম ও মেয়ে তাছফিয়া আর বেঁচে নেই এ খবর জানলে তার কি পরিস্থিতি হবে সে ভয়ে এখনো বলতে পারিনি, যে তারা আর নেই।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ