বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
৬ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী

রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৫ এএমসর্বশেষ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৫ এএম
রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী

রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একজন মুসলমান। আমাকে রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল। মুসলমান হিসেবে বাংলাদেশে আমি হয়ত সংখ্যাগুরু। কিন্তু এই দেশের ওপর আপনার যে অধিকার আছে, এই দেশের ওপর আমারও সেই অধিকার আছে। এই রাষ্ট্র আপনাকে যা দেবে, এই রাষ্ট্র আমাকেও তাই দেবে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো মানুষ জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করার সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিষ্টান—তা বিবেচনা করা হয়নি। সবার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে স্বাধীন করা।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার হুমকির মুখে পড়েছে। গণতন্ত্র রক্ষা, মানুষের কথা বলার অধিকার এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা রাজপথে নেমেছেন। এসব আন্দোলনে কেউ সহযোদ্ধার ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ওই সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী, শিশু, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষের ধর্মীয় পরিচয় তখন মুখ্য ছিল না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতা ধরে রাখতে স্বৈরাচার গুলি চালিয়েছে। এতে অনেকে শহীদ হয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন করা হয়নি। চিকিৎসকেরা গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ নাকি খ্রিষ্টান, তা বিবেচনা না করেই চিকিৎসা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের একক দেশ নয়; এটি সবার। ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয় হলেও বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয় সবার অভিন্ন পরিচয়। এ দেশে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।

শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি দেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখবে।

তিনি বলেন, দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে বিভিন্ন সময়ে মানুষ যে বাংলাদেশের জন্য রক্ত দিয়েছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের সব নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সবার অংশগ্রহণ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বক্তব্যের শেষে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানান তিনি। একই সঙ্গে সব নাগরিককে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীসহ সরকারের প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে ও দুপুরে রংপুর ও রাজশাহীতে শারদীয় দুর্গাপূজার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে রাতে চট্টগ্রামের জেএম সেন হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ