শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার একটি হোটেল থেকে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যরা তার অবস্থান শনাক্ত করে হোটেলটির সন্ধান পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবুল বাশার তালুকদার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।
জেলার গোসাইরহাট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল আরেফীন জানান, ভেদরগঞ্জ থানা সেতু সংলগ্ন কাছে ঢাকা আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত্যুর আগে তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
এর আগের দিন আবুল বাশার নিখোঁজ বলে জানায় তার পরিবার।
পুলিশ জানায়, পরিবারের ভাষ্যমতে, গত রোববার শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় নিজের পৈতৃক বাড়ির উদ্দেশে গাজীপুর থেকে রওনা হন বাশার।যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাশারের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টায় করে ভেদরগঞ্জের খোঁজ পান পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার সকালে তারা ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পুলিশ হোটেলটিতে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
শামসুল আরেফীন বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
তিনি জানান, বাশারের নাক ও মুখের আশপাশে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। তবে ছুরিকাঘাতের মতো দৃশ্যমান কোনো আঘাত কিংবা শ্বাসরোধের চিহ্ন এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
নড়িয়ায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে না গিয়ে বাশার কেন ভেদরগঞ্জে গিয়েছিলেন এবং সেখানে কার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন, পুলিশ সেটিও তদন্ত করছে।
আরেফীন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আনা হয়েছে।
মৃত্যুর আগে বাশারের মোবাইল থেকে কল করে পরিবারের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশও বিষয়টি তদন্ত করছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরেফীন বলেন, বাশারের পরিবারের বরাতে জানা গেছে, অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বাশারের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট থেকে তাদের ফোন করেন। ওই ব্যক্তি একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।
‘পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা পাঠানো হয়নি। ওই সময় বাশারের মোবাইল ফোনটি সক্রিয় ছিল,’ যোগ করেন তিনি।
বাশারের ভাগ্নে কবির হোসেন অভিযোগ করেন, সোমবার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা দুইবার ফোন করে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করেন। তারা বলেছিলেন, চিকিৎসার জন্য ওই টাকা প্রয়োজন।
কবির বলেন, ‘টাকা না দিলে মরদেহ পাওয়া যাবে না—ফোনে এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, শেষবার ফোনে কথা বলার সময় স্ত্রীকে বাশার জানিয়েছিলেন, তিনি বন্ধু নাইমের বাড়িতে রাতের খাবার খাচ্ছেন এবং সেখানেই থাকবেন।



