সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী শ্রমিক মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ আগামী শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিএস ৩৬২ ফ্লাইটে তার মরদেহ দেশে আনা হবে। ফ্লাইটটি আগামী বৃহস্পতিবার সৌদি স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসবে। পরদিন বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটির পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, শাহেদের নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান সাদ আল-ইসা কন্ট্রাকটিং কোম্পানি তার বকেয়া বেতন, ভাতা ও চাকরিসংক্রান্ত পাওনা বাবদ ২৭ হাজার ৩৯৫ দশমিক ৬২ সৌদি রিয়াল রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ টাকা।
প্রবাসীকল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে শিগগিরই এই অর্থ শাহেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
৩৬ বছর বয়সী শাহেদ বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মো. রফিকুল ইসলাম ও শাহেরা বেগমের সন্তান। ২০১৩ সাল থেকে জেদ্দায় প্লাম্বার হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। প্রায় দুই বছর পর দেশে এসে স্ত্রী কোহিনূর আখতার কাকলী (২৬) এবং দুই ছেলে আবদুল্লাহ (৬) ও কাওসারের (১১) সঙ্গে একমাসের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন শাহেদ।
কাকলী জানান, বাংলাদেশ সময় শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাহেদ কল করে জানিয়েছিলেন, তিনি নিরাপদে রিয়াদ বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি।
এর কিছুক্ষণ পর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মারা যান শাহেদ। একই হামলায় মৃত্যু হয় ওমরা হজের কাফেলায় থাকা কুমিল্লার বাসিন্দা নাসরুল্লাহ বদরপুরীর। হামলায় অন্তত আরও ২৪ জন বাংলাদেশি আহত হন বলে জানিয়েছিল প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
গত ১৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর আবিয়ার সঙ্গে বৈঠকে দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা চান। আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় তিনি সৌদি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
তবে নাসরুল্লাহর মরদেহ কবে দেশে আনা হবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু জানায়নি মন্ত্রণালয়।



