পটুয়াখালীতেসংবাদমাধ্যমের নিজস্ব সংবাদদাতা সোহরাব হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
আজ বুধবার সকালে পটুয়াখালীর আউলিয়াপুরে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে সকাল ১০টায় আউলিয়াপুর সাবিনা আক্তার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় সোহরাব হোসেনের বড় ছেলে আতিকুর রহমান ও ছোট ছেলে সুফিয়ান মোল্লা তাদের বাবার জন্য দোয়া চান।
এর আগেসংবাদমাধ্যমের কনটেন্ট এডিটর মোহাম্মদ আল-আমিন, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা সোহরাব হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
সেখানে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও নানা পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা শেষে বড় ভাই মাওলানা ওহাব মোল্লার কবরের পাশে সোহরাব হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়।
পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে তিনি মারা যান। হাসপাতালের মৃত্যু সনদে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
২০০৪ সালের ১ জানুয়ারিসংবাদমাধ্যমে যোগ দিয়ে দীর্ঘ ২২ বছরেরও বেশি সময় পটুয়াখালী সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সোহরাব।সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘ কর্মজীবনে সোহরাব হোসেন উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, পরিবেশগত সমস্যা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, অবকাঠামো এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর প্রতিবেদন করেছেন।
তার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পটুয়াখালী ইপিজেডের জন্য জমি অধিগ্রহণে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের সংকট এবং বছরের পর বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা সেতুর তথ্য।
এছাড়া কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে ১৪০ ডলফিনের মৃত্যুর ঘটনা, জেলেদের দুর্দশা এবং উপকূলীয় এলাকার ভাঙন নিয়ে তিনি প্রতিবেদন করেছেন।
পায়রা বন্দরে বিপুল সরকারি বিনিয়োগ সত্ত্বেও এর সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার না হওয়া নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও তিনি অবদান রেখেছেন।
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে তিনিসংবাদমাধ্যমের সেরা জেলা প্রতিবেদকের পুরস্কার পেয়েছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সোহরাব হোসেন বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
তিনি পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সহসভাপতি ছিলেন। এর আগে প্রেসক্লাবটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সোহরাবের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।



