কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকের ‘টুপ টুপ রিসোর্টে’ অগ্নিকাণ্ডের রেশ না কাটলেও দুর্গাপূজা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টানা ছুটিতে দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রটিতে এখন পর্যটকদের ঢল।
শহরের অদূরে লাবনি, সুগন্ধা ও কলাতলি সৈকত এবং আশপাশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো এখন পর্যটকে মুখর। হোটেলমালিকেরা বলছেন, অগ্নিকাণ্ডের পর পর্যটকদের আগমন কমে যাওয়ার একটা ভয় ছিল, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। তবে মেরিন ড্রাইভ সড়কের হোটেল ও রিসোর্টগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে এখনো শঙ্কা রয়ে গেছে।
হোটেলমালিকেরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা গত দুদিনে অনেকটাই কেটে গেছে। ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বেশির ভাগ হোটেলের কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
দুর্গাপূজা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি মিলিয়ে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ দিনে অন্তত ১০ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসবেন বলে আশা করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ হোটেল-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথমে আশঙ্কা ছিল ছুটিতে পর্যটক কমে যাবে।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু সেই শঙ্কা অনেকটাই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। শহরের হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোতে এখন প্রচণ্ড চাপ চলছে।
মুকিম খান জানান, ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটক সমাগম একই রকম থাকবে। এ সময় প্রতিদিন এক থেকে দেড় লাখ পর্যটক কক্সবাজারে আসতে পারেন। এরপর চাপ কিছুটা কমতে পারে।
মেরিন ড্রাইভের হোটেল ও রিসোর্টগুলোর চাহিদা প্রসঙ্গে মুকিম খান বলেন, আগে পর্যটকদের কাছে এখানকার হোটেল ও রিসোর্টগুলো পছন্দের শীর্ষে থাকলেও এখন সেই প্রবণতা কিছুটা কমেছে। ২৩ অক্টোবরের পরের তারিখগুলোর জন্য মেরিন ড্রাইভের হোটেলগুলোতে বুকিং তুলনামূলক কম বলে জানান তিনি।
মেরিন ড্রাইভ সড়কের বেশ কয়েকজন হোটেলমালিকও জানান, ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের বেশিরভাগ কক্ষ বুকিং হলেও এরপরের তারিখগুলোতে অনেক কক্ষ খালি থাকবে।
একই কথা জানান পাটুয়ারটেকের ওশান পার্ল রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমন। তিনিও জানান, ২৩ অক্টোবরের পরের দিনগুলোতে বুকিং কিছুটা কম আছে।
তিনি জানান, টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস তদারকি বাড়িয়েছে। হোটেল ও রিসোর্টগুলোকে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হচ্ছে।
তবে মেরিন ড্রাইভের পর্যটন ব্যবসায় জড়িত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাঁশ, কাঠের খুঁটি ও অন্যান্য দাহ্য পদার্থ দিয়ে তৈরি কিছু স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে এখনো শঙ্কা রয়েছে।
তাদের আশঙ্কা, যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে।
সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে কথা হয় গাজীপুর থেকে আসা পর্যটক স্নিগ্ধা আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরিবারসহ অনেক আগে থেকেই কক্সবাজার আসার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের খবর দেখে তারা ভয় পেয়েছিলেন।
স্নিগ্ধা বলেন, ‘পর্যটকেরা এভাবে প্রাণ হারাবেন, তা কখনো ভাবিনি। তবে এখানে আসার পর ভয় কেটে গেছে।
কক্সবাজার হোটেল-গেস্টহাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার বলেন, ২১ অক্টোবর লাবণী পয়েন্টে প্রতিমা বিসর্জন উৎসবকে কেন্দ্র করে তিন দিন প্রতিদিন অন্তত লাখ খানেক বা তার বেশি মানুষের সমাগম হতে পারে।
তিনি জানান, ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত তারকা ও মাঝারি মানের হোটেলগুলোর প্রায় সব কক্ষই বুকিং হয়ে গেছে। এরপর পর্যটকদের চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে প্রশাসন হোটেলগুলোর ওপর নজর রাখছে বলেও জানান তিনি।
সিকদারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার শহরে পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউস রয়েছে, যেখানে অন্তত দেড় লাখ মানুষ রাত যাপন করতে পারেন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পর্যটন সেলের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পর্যটনশিল্পের সঠিক ব্যবস্থাপনা আমাদের অগ্রাধিকার। কেউ যাতে পর্যটকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে বা কোনোভাবে হয়রানি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।



