ব্যাটিং বিপর্যয়ের কঠিন চাপ মাথায় নিয়ে ৪২তম ওভারেই মাত্র ১৬০ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এত অল্প রান পুঁজি করে জয় পাওয়া যেমন কঠিন ছিল, তেমনি ফাইনালে ওঠার হিসাব মেলানোও ছিল প্রায় অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত সেই ক্ষীণ আশাটুকুও ধূলিসাৎ হয়ে গেল। টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করতে হলে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে হতো বাংলাদেশকে। কিন্তু আফগানরা ইতোমধ্যে সেই রান পেরিয়ে টাইগারদের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েছে।
এর আগে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তবে পরের ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে আফগানিস্তান হারিয়ে দেওয়ায় ফাইনালে ওঠার নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়। সেই সমীকরণ অনুযায়ী আফগানদের বিপক্ষে অন্তত ৪১ রানের জয় প্রয়োজন ছিল লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। কিন্তু টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটারদের বাজে পারফরম্যান্সের কারণে শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যায় দল, পরে বোলাররাও সেই ধাক্কা সামাল দিতে পারেননি।
১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান ৩৯ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই রহমানউল্লাহ গুরবাজকে (৬) বোল্ড করে প্রথম আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। সপ্তম ওভারে সেদিকউল্লাহ অটলকেও (৪) সাজঘরে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি।
তবে তৃতীয় উইকেটে ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ মিলে ৫৬ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন। পরে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ইব্রাহিম আউট হন; মিডউইকেটে দারুণভাবে পেছনে লাফিয়ে সেই ক্যাচটি তালুবন্দি করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু নতুন ব্যাটার হাশমতউল্লাহ শাহিদিকে সাথে নিয়ে রহমত শাহ খুব সহজেই ১১৯ রানের বাধা পেরিয়ে দলের ফাইনাল নিশ্চিত করেন।
ইতোমধ্যেই ৬৬ বলে নিজের হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৬.৫ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ১২০ রান সংগ্রহ করেছে আফগানিস্তান। ম্যাচ জিততে হলে তাদের এখনও ২৩.১ ওভারে ৪১ রান প্রয়োজন। তবে এই ম্যাচের জয়-পরাজয় নিয়ে আফগানদের আর না ভাবলেও চলছে; বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য একটি জয় শুধুই সান্ত্বনা ছাড়া আর কিছুই নয়!



