রান্নাঘরের সিঙ্ক, ফ্রিজের পেছন, আলমারির কোণ কিংবা খাবারের টেবিলে হঠাৎ ছোট ছোট তেলাপোকার আনাগোনা! আকারে ছোট হলেও এরা দ্রুত বংশবিস্তার করে পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণভাবে ‘চাইনিজ তেলাপোকা’ বলা হলেও এগুলো কোন প্রজাতির, তা নিশ্চিত হতে ছবি বা বিশেষজ্ঞের শনাক্তকরণ প্রয়োজন।
কোথা থেকে আসে এসব তেলাপোকা?
বাইরে থেকে আনা বাজারের ব্যাগ, কার্টন, পুরোনো আসবাব, ব্যবহৃত ইলেকট্রনিকস কিংবা প্রতিবেশী বাসা থেকেও তেলাপোকা ঘরে ঢুকতে পারে। অ্যাপার্টমেন্টের পাইপের আশপাশ, দেয়ালের ফাঁক ও বিভিন্ন সংযোগস্থল দিয়েও এদের চলাচল সম্ভব। বিশেষ করে রান্নাঘরের উষ্ণ পরিবেশ, আর্দ্রতা এবং খাবারের সহজলভ্যতা এদের বেঁচে থাকার উপযুক্ত জায়গা তৈরি করে।
এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কেন?
তেলাপোকা খাবারের সামান্য কণা, তেল-চর্বির দাগ, ময়লা ও পানির সাহায্যেই টিকে থাকতে পারে। এদের ডিমের থলি নিরাপদ জায়গায় লুকিয়ে থাকলে নতুন তেলাপোকা জন্মাতে পারে। কিছু প্রজাতি কয়েক মাসের মধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই এক-দুটি তেলাপোকা দেখেই বিষয়টিকে অবহেলা করা ঠিক নয়।
রাতে খাবার পরিষ্কার করা এত জরুরি কেন?
রাতে ঘরের মানুষ ঘুমিয়ে পড়লে তেলাপোকা খাবারের সন্ধানে বের হয়। রাতভর খোলা খাবার, নোংরা থালা, সিঙ্কে জমে থাকা পানির ফোঁটা কিংবা ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্ট তাদের জন্য সহজ খাবারের উৎস হয়ে দাঁড়ায়।
খাবার ঢেকে রাখুন অথবা ফ্রিজে তুলে রাখুন।
থালা-বাসন ধুয়ে ফেলুন এবং সিঙ্ক পরিষ্কার করুন।
চুলা ও রান্নার কাউন্টার থেকে তেল, ঝোল ও খাবারের কণা মুছে ফেলুন।
ডাস্টবিনের ঢাকনা বন্ধ রাখুন এবং নিয়মিত ময়লা ফেলে দিন।
মেঝেতে পড়ে থাকা খাবারের টুকরা ও পানির ফোঁটা পরিষ্কার করুন।
মনে রাখবেন, শুধু ঘর ঝাড়ু দিলেই হবে না। তেলাপোকার খাবার ও পানির উৎস বন্ধ করতে পারলেই এদের বংশবিস্তারের সুযোগ অনেকটা কমানো সম্ভব।



