তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার নীতি সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার দায়ে মেটাকে ২ হাজার ৫শ’ কোটি ডলার জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন আমেরিকার নিউ মেক্সিকো আদালত। কোনো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত জরিমানার মধ্যে এটি অন্যতম বৃহত্তম। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির ঘটনায় ২০২১ সালে মেটার বিরুদ্ধে মামলা করে আমেরিকার নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য।
গত মাসে দুই সপ্তাহের বিচার শেষে সান্তা ফের অঙ্গরাজ্য জেলা আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, মেটা নিউ মেক্সিকোর ভোক্তা সুরক্ষা আইন ৪ কোটি ৩০ লাখ বার লঙ্ঘন করেছে, যেখানে প্রতিটি লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। আদালত জানিয়েছেন, মেটা এবং এর নির্বাহীরা জেনেশুনে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করেছেন। আদালত মন্তব্য করেন, “এই ঘটনায় যে ক্ষতি হয়েছে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন; এটি ফেসবুকের মৌলিক ব্যবসায়িক ভিত্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বছরের পর বছর ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে আইন লঙ্ঘনের এই বিপুল সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ের জরিমানা আরোপের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে।”এই রায় মেটার জন্য বড় ধরনের ধাক্কা।
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মালিক প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে হাজার হাজার মামলার মুখোমুখি। এসব মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্ম শিশুদের নিরাপত্তা বিপন্ন করেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি বাড়িয়েছে, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার করেছে এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘন করেছে।নিউ মেক্সিকো এর আগেও মেটার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি আইনি জয় পেয়েছে। আগস্টে, এক জুরির রায়ের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের এক বিচারক মেটাকে ৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন; কারণ প্রতিষ্ঠানটি তরুণ ব্যবহারকারীদের ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছিল বলে প্রমাণিত হয়। একই মামলায় মার্চে প্রতিষ্ঠানটির ওপর ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানাও আরোপ করা হয়।
আগস্টে ৪৭টি অঙ্গরাজ্য, কলাম্বিয়া জেলা ও আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে একটি যুগান্তকারী সমঝোতায় পৌঁছায় মেটা। শিশুদের বিপন্ন করে এমন আসক্তিকর প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭শ’ ১০ কোটি ডলার জরিমানা দিতে এবং তাদের পণ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সম্মত হয়। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা-সংশ্লিষ্ট একই ধরনের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ নিষ্পত্তিতেও প্রতিষ্ঠানটি ৪৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার দিতে সম্মত হয়।
নিউ মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ হাজার ৫শ’ কোটি ডলারের জরিমানার অর্থ জনশিক্ষা তহবিলে জমা করা হবে। অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেজ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এমনভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে যেন তাদের আকার ও প্রভাবের কারণে তারা আইনের আওতার বাইরে। আজকের এই রায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনো প্রতিষ্ঠানই এত শক্তিশালী নয় যে তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাবে না।
আদালত বলেছেন, ফেসবুক জানত যে ব্যবহারকারীরা তাদের গোপনীয়তার ব্যাবস্থাপনা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন; প্রতিষ্ঠানটি সেই অজ্ঞতার সুযোগ চরমভাবে অন্যায্য মাত্রায় নিয়েছে। আদালত আরও বলেছেন, “ব্যবহারকারীরা নিজেদের তথ্যের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিভ্রান্তিকর বক্তব্য বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং ফেসবুকের ব্যবসায়িক মডেলের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রতারণার একটি সুপরিকল্পিত ধারা।” সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।



