রান্নাঘরের ক্যাবিনেট, ফ্রিজের পেছন কিংবা খাবারের তাক- ছোট তেলাপোকার উপদ্রব একবার শুরু হলে সহজে থামতে চায় না। বাজার থেকে স্প্রে কিনে ব্যবহার করেও অনেক সময় কয়েক দিন পর আবার তেলাপোকার দেখা মেলে। কারণ, স্প্রে করে দৃশ্যমান তেলাপোকা মারলেও লুকিয়ে থাকা পোকা ও ডিমের থলি থেকে নতুন তেলাপোকা বের হতে পারে।
এ সমস্যা সমাধানে শুধু সাধারণ স্প্রে নয়, জেল বেইট, বোরিক অ্যাসিডভিত্তিক পণ্য এবং উপযুক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা যায়। তবে কোনটি বেশি কার্যকর হবে, তা নির্ভর করে তেলাপোকার প্রজাতি, উপদ্রবের মাত্রা এবং সঠিকভাবে ব্যবহারের ওপর।
ছোট তেলাপোকা দমনে কোন ধরনের ওষুধ কার্যকর?
ছোট তেলাপোকার উপদ্রবের ক্ষেত্রে জেল বেইট অনেক সময় সবচেয়ে কার্যকর বিকল্পগুলোর একটি। এতে থাকা আকর্ষণীয় খাবারের উপাদানের সঙ্গে কীটনাশক মেশানো থাকে। তেলাপোকা জেল খেয়ে মারা যায়। সঠিক পণ্য ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি লুকিয়ে থাকা তেলাপোকার সংখ্যাও কমাতে সাহায্য করে।
জেল সাধারণত সিঙ্কের নিচে, ক্যাবিনেটের কোণে, ফ্রিজের পেছনে এবং তেলাপোকার চলাচলের কাছাকাছি ছোট ছোট বিন্দুতে ব্যবহার করা হয়। খাবার তৈরির পৃষ্ঠ, বাসন কিংবা খাবারের সংস্পর্শে আসতে পারে- এমন জায়গায় দেওয়া যাবে না।
বোরিক অ্যাসিডযুক্ত নির্দিষ্ট কীটনাশক পণ্যও তেলাপোকা দমনে ব্যবহার করা হয়। তবে পাউডার মোটা করে ছড়িয়ে না দিয়ে পণ্যের লেবেল অনুযায়ী উপযুক্ত ফাঁক বা লুকানোর স্থানে ব্যবহার করতে হয়। শিশু ও পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
স্প্রে দ্রুত দৃশ্যমান তেলাপোকা মারতে পারে। তবে ক্যাবিনেটের গভীরে বা দেয়ালের ফাঁকে লুকিয়ে থাকা তেলাপোকা নির্মূল করতে এটি একা যথেষ্ট নাও হতে পারে। জেল বেইটের আশপাশে স্প্রে করলে তেলাপোকা জেলের কাছে আসা কমিয়ে দিতে পারে। তাই দুটো একসঙ্গে নির্বিচারে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
কিছু পণ্যে এমন উপাদান থাকে, যা তেলাপোকার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বংশবিস্তারে বাধা দেয়। ব্যাপক উপদ্রবে প্রশিক্ষিত পেস্ট কন্ট্রোল কর্মীরা জেল বেইটের সঙ্গে এ ধরনের পণ্য ব্যবহার করতে পারেন। তবে সব পণ্যে IGR থাকে না এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে সব তেলাপোকা মেরে ফেলে না।



