সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
১১ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

বরিশালে নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র আটকে আছে নকশায়

বরিশালে নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র আটকে আছে নকশায়...

স
সুমিত রয়· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ৪:১৬ এএমসর্বশেষ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ৪:১৬ এএম
বরিশালে নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র আটকে আছে নকশায়

নজরুলবর্ষেও আলোর মুখ দেখেনি বরিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ। জমি বরাদ্দ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম-অনেকটাই এগিয়েছে। কিন্তু স্থাপত্য নকশা না পাওয়ায় থমকে আছে পরবর্তী কাজ। নকশা চেয়ে দুই বছর আগে চিঠি দিয়েও সাড়া পায়নি কবি নজরুল ইনস্টিটিউট। ফলে কবে নাগাদ স্মৃতিকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হবে, তার সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই কারও কাছে।

বরিশালে নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র নির্মাণের দাবি ওঠে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি নজরুল সম্মেলনে। ওই সম্মেলনে শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা এ দাবি জানান বলে ২০২১ সালে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করে নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ।

সংগঠনটির সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. জহুরুল হাসান তালুকদার ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান। চিঠিতে বলা হয়, ১৯২০ সালে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের আমন্ত্রণে কাজী নজরুল ইসলাম বরিশাল সফর করেন এবং তিন দিন অবস্থান করেন। এ সময় তিনি কয়েকটি সংগীত রচনা করেন বলেও দাবি সংগঠনটির। তাদের মতে, কবির স্মৃতিবিজড়িত বরিশালে স্মৃতিকেন্দ্র গড়ে উঠলে তার সাহিত্য ও সংগীতচর্চা আরও বিস্তৃত হবে।

এরপর ২০২১ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দেন।

৪০ শতাংশ জমির প্রস্তাব : জেলা প্রশাসকের চিঠির পর ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখা-৩ কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালককে চিঠি দেয়। এতে স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা, জমির প্রাপ্যতা, জনবল এবং ইনস্টিটিউটের পরিচালনা পরিষদের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

একই বছরের ২৪ নভেম্বর ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে বরিশালের জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে স্মৃতিকেন্দ্র নির্মাণের জন্য উপযুক্ত স্থানে প্রায় ৪০ শতাংশ নিষ্কণ্টক জমি পাওয়া যাবে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। জমি পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি জহুরুল হাসান তালুকদার নগরীর পরিত্যক্ত বরিশাল অডিটরিয়ামের পশ্চিম পাশ থেকে ৪০ শতাংশ জমি বরাদ্দের প্রস্তাব দেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অডিটরিয়ামটি জেলা প্রশাসনের নিজস্ব সম্পত্তি এবং সেখানে এক একরের বেশি জমি রয়েছে।

৩ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে চিঠি পাঠিয়ে নগরীর প্রাণকেন্দ্রে ৪০ শতাংশ খাসজমি পাওয়া যায় কি না, তা সরেজমিন তদন্ত করে মতামত দিতে বলা হয়।

২০২২ সালের ৩১ মার্চ সদর উপজেলা ভূমি অফিস জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমির প্রস্তাব পাঠায়। এতে সদর উপজেলার চর উলানঘুণী মৌজার বিএস ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ৯১ নম্বর দাগে থাকা ০.৪০ একর বা ৪০ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ করা হয়। সঙ্গে পাঠানো হয় জমির স্কেচ ম্যাপ, অবস্থান মানচিত্র ও খতিয়ানের অনুলিপি।

পরে ১০ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালককে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, প্রস্তাবিত জমিটি নিষ্কণ্টক খাসজমি। সেখানে স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন করা যেতে পারে। তবে জমিটি চূড়ান্তভাবে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল কি না, তা সরবরাহ করা নথি থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নকশার জন্য চিঠি, তবু অগ্রগতি নেই : জমির প্রস্তাবের পর ভবনের নকশা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্থাপত্য অধিদপ্তর কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালককে চিঠি দিয়ে জানায়, প্রস্তাবিত বহুতল ভবনের চাহিদামালা ও জমির স্কেচ ম্যাপ পাওয়া গেছে। তবে নকশা তৈরির জন্য আরও কিছু তথ্য প্রয়োজন। এর মধ্যে ছিল প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের চিঠি, জমির ডিজিটাল সার্ভে নকশা এবং গ্রন্থাগার, ২৫০ আসনের অডিটরিয়াম ও প্রশিক্ষণকক্ষের আকার ও ধারণক্ষমতার বিস্তারিত বিবরণ।

এরপর ১০ সেপ্টেম্বর ইনস্টিটিউট জেলা প্রশাসকের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানোর অনুরোধ জানায়। একই বছরের ২৯ অক্টোবর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গণপূর্ত বিভাগের তৈরি ডিজিটাল সার্ভে নকশার হার্ডকপি ও সফট কপি পাঠানো হয়।

১২ ডিসেম্বর ইনস্টিটিউট স্থাপত্য অধিদপ্তরে ভবনের সুযোগ-সুবিধার বিবরণ পাঠায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবনে থাকবে ১ হাজার বর্গফুটের গ্রন্থাগার, ২ হাজার বর্গফুটের জাদুঘর এবং ৫০ জন করে বসতে পারবেন-এমন চারটি প্রশিক্ষণকক্ষ।

এরপরও নকশার কাজ এগোয়নি। ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতির কাছে চিঠি দিয়ে নকশা তৈরি করে পাঠানোর অনুরোধ জানায় কবি নজরুল ইনস্টিটিউট। এ বিষয়ে এটিই সর্বশেষ চিঠি। এরপর নকশা তৈরি, প্রকল্পের অনুমোদন কিংবা নির্মাণকাজ শুরুর বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদের বরিশাল শাখার সাধারণ সম্পাদক জহুরুল হাসান তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতিকেন্দ্র নির্মাণের জন্য নানা ধরনের চেষ্টা চলছে। এটি নির্মিত হলে নতুন প্রজন্ম নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও সংগীত সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ পাবে। নজরুলবর্ষেই উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হোক, এটাই তাদের চাওয়া।

সংগঠনটির সভাপতি সহিদুজ্জামান মামুন বলেন, বরিশালে স্মৃতিকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ দীর্ঘদিন ধরে চললেও কাজ শুরু হয়নি। নজরুলবর্ষে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কবির স্মৃতি সংরক্ষণ ও তার সৃষ্টিকর্ম চর্চার সুযোগ তৈরি হোক, এটাই তাদের প্রত্যাশা।

জেলা প্রশাসকের বক্তব্য : বরিশালে স্মৃতিকেন্দ্র নির্মাণের বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, স্থাপত্য অধিদপ্তর থেকে নকশা পাওয়া না গেলে দ্রুত তা পাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্মৃতিকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করতেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
স

সুমিত রয়

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ