৯ বছর পর কুয়াকাটায় এবার হয় পর্যটন কার্নিভ্যাল। মূলত পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এই আয়োজন হলেও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান স্পন্সর জোগাড় করে। এ অনুষ্ঠানের ব্যান্ড শো থেকে শুরু করে শিশুদের চিত্রাঙ্কন, বিচ ম্যারাথন, বিচ ফুটবল, বিচ ক্রিকেট ও ঘুড়ি ওড়ানোসহ সব আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ব্যান্ডশো দেখার জন্য যত পর্যটক রেজিস্ট্রেশন করেছেন, তাদের জন্য পর্যাপ্ত ছিল মাঠের ধারণক্ষমতা। মঞ্চের উচ্চতা কম হওয়ায় বেশির ভাগ দর্শক অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে উপভোগ করতে পারেননি। অনুষ্ঠানে তথ্যকেন্দ্র থাকলেও সেখানে দায়িত্বশীল কেউ ছিলেন না। চিত্রাঙ্কন, ব্যান্ডশো ও খেলাধুলায় শৃঙ্খলা ছিল না। এছাড়া বরিশাল অঞ্চলের গুণিজনদের কাউকে কার্নিভ্যালে রাখা হয়নি। পাশাপাশি খাবারের দামও ছিল অস্বাভাবিক বেশি। কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, ‘সাদা চোখে যা দেখেছি তা হলো সবকিছু একাই করার টার্গেটে ছিলেন মামুন। পর্যটন করপোরেশনের কর্মকর্তারা অবশ্য আমাদের সঙ্গে বসেছেন। তবে যখনই আমরা কিছু বলতে গেছি তখন মামুন বলেছেন যে সব প্রস্তুতি তিনি নিয়েছেন।
ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা-টোয়াকের প্রেসিডেন্ট রুমন ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘এখানে কার্নিভাল করতে কী লাগবে বা না লাগবে সে ব্যাপারে সবচেয়ে ভালো সহযোগিতা করতে পারতেন স্থানীয় বিভিন্ন সেক্টরের নেতৃত্বস্থানীয়রা। উচিত ছিল ছোট ছোট কমিটি করে তাদের দায়িত্ব দেওয়া। আমরা আগ বাড়িয়ে সহযোগিতা করতে গিয়েও তার (অনন্য মামুন) অসহযোগিতার কারণে ফিরে এসেছি।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোতালেব শরীফ বলেন, ‘উনার (অনন্য মামুন) উচিত ছিল একাধিক মনিটরিং টিম করা। কেউ ভাড়া বেশি নিচ্ছে কিনা, খাবারের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে কিনা, পর্যটকদের যাতায়াতে কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা। সেসবের কোনো আয়োজন রাখা হয়নি।
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জসিমউদ্দিন বাবুল ভূঁইয়া বলেন, স্থানীয় এমপি এবিএম মোশাররফ হোসেনের হস্তক্ষেপ না থাকলে কার্নিভাল ঘিরে বড় ধরনের অঘটন ঘটত। এমপি সাহেব হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন ত্রুটি হচ্ছে। তাই বিএনপিসহ দলের নেতাকর্মীদের মাঠে নামান তিনি। এমপি মোশাররফও দিন-রাত ছুটে বেড়িয়েছেন নির্বাচনি এলাকার মান বাঁচাতে।
কলাপাড়ার ইউএনও আরিফুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কাছে যতটুকু সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে তা আমরা দিয়েছি। তবে কোনো বিষয়েই সম্পৃক্ত করা হয়নি প্রশাসনকে। মূলতঃ একা একা সব করতে গিয়েই এতবড় একটি আয়োজন হযবরল করে ফেলা হলো।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অনন্য মামুন বলেন, কিছু ভুলত্রুটি যে হয়নি তা নয়। তবে সার্বিকভাবে একটা সফল কার্নিভ্যাল করতে পেরেছি। স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করা বা ছোট ছোট কমিটি করার যে কথা বলছেন, সেটা তো আমরা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের করার কথা নয়। এটা করা উচিত ছিল স্থানীয় প্রশাসনের। সেখানকার সবার সহযোগিতা পেয়েছি বলেই সুন্দরভাবে আয়োজনটি শেষ করতে পেরেছি।



