বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের তালিকায় সবার ওপরের দিকেই থাকবেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে ও আর্জেন্টিনার ফুটবল জাদুকর দিয়েগো ম্যারাডোনা। অথচ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সাফল্য অর্জন করলেও তাদের কারও হাতেই ওঠেনি ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। এর পেছনে মূল কারণ ছিল পুরস্কারটির যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়ম।
১৯৫৬ সালে যাত্রা শুরু করা ব্যালন ডি’অর প্রথমদিকে কেবল ইউরোপীয় ফুটবলারদের জন্য বরাদ্দ ছিল। ফলে ইউরোপের বাইরে জন্ম নেওয়া পেলে ও ম্যারাডোনার মতো কিংবদন্তিরা নিজেদের সেরা সময়ে এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ পাননি।
১৯৯৫ সালে নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়। এরপর থেকে ইউরোপের ক্লাবে খেলা যেকোনো দেশের ফুটবলার এই পুরস্কারের জন্য যোগ্য হন। ওই বছরই প্রথম অ-ইউরোপীয় খেলোয়াড় হিসেবে ব্যালন ডি’অর জেতেন লাইবেরিয়ার স্ট্রাইকার জর্জ উইয়াহ, যিনি তখন এসি মিলানে খেলতেন। পরবর্তী সময়ে ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও, রিভালদো, রোনালদিনিও এবং কাকাও এই পুরস্কার জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন।
এরপর ২০০৭ সালে ব্যালন ডি’অরের নিয়ম আরও বিস্তৃত করা হয়। বিশ্বের যেকোনো দেশের যেকোনো ক্লাবে খেলা ফুটবলারকে পুরস্কারটির জন্য বিবেচনার সুযোগ দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের সুবিধা পেয়েছেন লিওনেল মেসিও। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মিয়ামিতে খেলার সময়ও তিনি ব্যালন ডি’অর জিততে সক্ষম হন।
অন্যদিকে, পেলে ও ম্যারাডোনার ক্যারিয়ারের সময় নিয়মগুলো তাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পেলে ১৯৭৭ সালে নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে খেলার মধ্য দিয়ে পেশাদার ক্যারিয়ার শেষ করেন। অথচ ইউরোপের বাইরের খেলোয়াড়দের জন্য ব্যালন ডি’অরের দরজা খোলার আগেই তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটে।
ম্যারাডোনাও ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেললেও পুরস্কারটির জন্য যোগ্য ছিলেন না। বার্সেলোনা, নাপোলি ও সেভিয়ার হয়ে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর ১৯৯৩ সালে আর্জেন্টিনায় ফিরে যান তিনি। এর আগে ১৯৯১ সালে মাদক পরীক্ষায় কোকেন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিলেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।
অর্থাৎ, পেলে ও ম্যারাডোনার ব্যালন ডি’অর না জেতার পেছনে তাদের ফুটবলীয় সামর্থ্যের ঘাটতি নয়, বরং পুরস্কারটির তৎকালীন সীমাবদ্ধ নিয়মই ছিল প্রধান কারণ। তাদের সময়ে নিয়ম ভিন্ন হলে ফুটবল ইতিহাসের এই দুই মহাতারকার অর্জনের তালিকায় হয়ত যুক্ত হতে পারত ব্যালন ডি’অরের নামও।



