সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
১১ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

মেরিন ড্রাইভে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো চারতলা রিসোর্ট

মেরিন ড্রাইভে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো চারতলা রিসোর্ট...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৫ পিএমসর্বশেষ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৫ পিএম
মেরিন ড্রাইভে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো চারতলা রিসোর্ট

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে অবৈধ হোটেল ও রিসোর্টের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযানে চারতলা একটি রিসোর্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভবনটিতে প্রায় ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন মালিক।

আজ সোমবার দুপুরে কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার ইনানীতে অবস্থিত ভবনটিতে অভিযান চালানো হয়। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেয় জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার বাহিনী।

গত ১৭ অক্টোবর পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অনুমোদনহীন পর্যটন স্থাপনা নির্মাণ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।

আজ সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে একটি এক্সকাভেটর আনা হয়। প্রথমে ভবনের নিচতলা ও দুপাশে থাকা ১০-১২টি দোকান ভেঙে ফেলা হয়। এরপর কাচের স্থাপনাগুলো ভাঙার পর মূল ভবনের স্তম্ভগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়।

কউকের সচিব সানজিদা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, অনুমোদনহীন ভবনটি নিজ উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে মালিককে চারটি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভবনটি অপসারণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ কারণে কর্তৃপক্ষ এটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।

তিনি আরও বলেন, প্রযোজ্য আইন ও বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করেই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

তবে ভবনটির মালিক শহিদুল হক দাবি করেন, ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিয়ে তিনি ২০১৪ সালে নির্মাণকাজ শুরু করেন।সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ভবনটির নিচতলায় দোকান, দ্বিতীয় তলায় রেস্তোরাঁ এবং তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা ছিল। শিগগির রিসোর্টটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা করেছিলাম। এই ভবনে প্রায় ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি।

শহিদুল হক বলেন, চারটি নোটিশেরই জবাব দিয়েছি। ভবন নির্মাণের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও আমার কাছে রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এসব কাগজপত্র বিবেচনায় নিচ্ছে না।

কউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভের দুপাশে অসংখ্য রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। এর অনেকগুলোরই প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই।

‘বারবার নোটিশ দেওয়ার পরও অনুমোদনহীন স্থাপনাগুলো অপসারণ না করায় যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। মেরিন ড্রাইভের পাশে কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকতে দেওয়া হবে না’, বলেন তিনি।

জসিম উদ্দিন বলেন, ২০১৬ সালে কউক প্রতিষ্ঠার পর থেকে পৌর এলাকাসহ কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় এক হাজার ৭০০টি ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে মেরিন ড্রাইভের দুপাশে অবকাঠামো নির্মাণে বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও প্রায় আড়াই হাজার স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ।

তিনি আরও বলেন, কয়েকটি তারকা মানের প্রতিষ্ঠান ছাড়া এসব স্থাপনার অধিকাংশের বৈধ অনুমোদন নেই।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ