ভোরের আলো ফোটার আগেই যিনি বাইসাইকেল কিংবা হেঁটে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস, বাসা ও দোকানে খবরের কাগজ পৌঁছে দিতেন, সেই চিরচেনা মানুষটি আর নেই। মুরাদনগর উপজেলার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও পরিচিত পত্রিকার হকার নিতাই চন্দ্র দাস পরলোক গমন করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতা ও শ্বাসকষ্টে ভুগে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে নিজ বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী এবং দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তার শেষকৃত্য ও দাহকার্য সম্পন্ন হয়।
শীত-গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা—সব ঋতুতেই মুরাদনগরের মানুষের সকাল শুরু হতো নিতাই চন্দ্রের হাতের খবরের কাগজ দিয়ে। প্রত্যুষে মুরাদনগর প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে শুরু করে বাজারের বিভিন্ন দোকানপাট ও দপ্তরে দপ্তরে পত্রিকা পৌঁছে দেওয়া ছিল তার নিত্যদিনের রুটিন। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি তার সততা ও নিষ্ঠার পেশাটি ধরে রেখেছিলেন। মানুষের হাতে নতুন খবরের কাগজ তুলে দেওয়াই ছিল যেন তার জীবনের ব্রত।
নিতাই চন্দ্রের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুরাদনগর প্রেস ক্লাব ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। সাংবাদিকরা জানান, তিনি শুধু একজন হকার ছিলেন না, ছিলেন সংবাদকর্মীদের কাজের একজন নেপথ্য সহযোগী। তার এই অকাল প্রয়াণে মুরাদনগরের সাংবাদিক সমাজ একজন আপনজনকে হারিয়েছে।
প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
ভোরের শান্ত সকালে মুরাদনগরের অলি-গলিতে বাইসাইকেলের সেই চেনা শব্দ হয়তো আর শোনা যাবে না, কিন্তু মানুষের মনে ও স্মৃতির পাতায় নিতাই চন্দ্র বেঁচে থাকবেন তার কর্মনিষ্ঠা আর সরলতার সুবাস ছড়িয়ে।



