বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

খেলাধুলা

এমবাপ্পে, জন সিনাসহ ক্ষমা চাওয়া বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াবিদরা

এমবাপ্পে, জন সিনাসহ ক্ষমা চাওয়া বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াবিদরা...

ম
মোহাম্মদ আলী· ক্রীড়া সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ পিএমসর্বশেষ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ পিএম
এমবাপ্পে, জন সিনাসহ ক্ষমা চাওয়া বিশ্বখ্যাত ক্রীড়াবিদরা

বিশ্বজুড়ে তারকা ক্রীড়াবিদরা নিজেদের প্রায়ই সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে সোচ্চার ও সাহসী মুখপাত্র হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু চীনের প্রসঙ্গ আসলেই তাদের সেই বিদ্রোহী বা সাহসী রূপের দেখা মেলে না বললেই চলে। বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং বিশাল বাজারের কথা মাথায় রেখে চীনের ক্ষেত্রে তারা যেন বরাবরই নীরবতা পালন করেন—নয়তো নিজেদের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন।

ফরাসি ফুটবল তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের সাম্প্রতিক ঘটনাটি এই বাস্তবতারই সর্বশেষ উদাহরণ।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে এমবাপ্পেকে নিয়ে একটি মিম ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে চীনের সাবেক নেতা মাও সেতুংয়ের ছবির ওপর এই ফরাসি তারকার মুখাবয়ব বসানো হয়েছিল। এক সাক্ষাৎকারে সেই মিম নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মাও সেতুংয়ের প্রসঙ্গ ওঠায় এমবাপ্পে তাকে ‘স্বৈরশাসক’ (ডিকটেটর) বলে অভিহিত করেন।

এই মন্তব্য করার পরই বিপাকে পড়েন এমবাপ্পে। চীনের একাধিক শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি তার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তি বাতিল করে। এমনকি চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি (CCTV) স্প্যানিশ লা লিগার সম্প্রচার স্থগিত করায় বাধ্য হয়ে লিগ কর্তৃপক্ষকেও ক্ষমা চাইতে হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে এক বিবৃতিতে এমবাপ্পে লেখেন, ‘আমার মন্তব্যটি অবিবেচকের মতো ছিল। আমি এখন বুঝতে পারছি যে এটি চীন এবং বিশ্বজুড়ে থাকা চীনা সম্প্রদায়ের বহু মানুষের মনে আঘাত দিয়েছে। আমার কথায় যারা কষ্ট পেয়েছেন, আমি সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। চীনা জনগণ এবং তাদের ইতিহাসের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে এবং আমি এর জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

লা লিগা কর্তৃপক্ষও এক বিবৃতিতে ফরাসি তারকার মন্তব্যের জন্য চীনা ভক্তদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে জানায় যে, এগুলো তার ব্যক্তিগত মন্তব্য ছিল।

এমবাপ্পেই প্রথম নন, এর আগেও বিশ্বখ্যাত অনেক ক্রীড়াবিদ চীনের বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে একই পথ বেছে নিয়েছেন। আমেরিকার বাস্কেটবল সুপারস্টার লেব্রন জেমসের ক্ষেত্রে বিষয়টি সবচেয়ে পরিষ্কার।

২০১৮ সালে জেমস ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তিনি শুধু একজন বাস্কেটবল খেলোয়াড় নন, তাই সামাজিক ইস্যুতে তিনি ‘কখনো নীরব থাকবেন না’। কিন্তু চীনের ক্ষেত্রে সেই নীতি খাটে না। ২০১৯ সালে এনবিএ দল হিউস্টন রকেটের তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার ড্যারিল মোরি হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়ে একটি পোস্ট দেন।

এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেব্রন জেমস মোরিকে ‘ভুল তথ্যপ্রাপ্ত’ ও এ বিষয়ে ‘অজ্ঞ’ বলে আখ্যায়িত করেন। শুধু তাই নয়, এনবিএ-এর অন্য খেলোয়াড়দেরও চীনের বিষয়ে কথা বলার পরিণতির কথা ভেবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি। সে সময় হিউস্টন রকেটের তারকা জেমস হার্ডেনও চীনের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেছিলেন, ‘আমরা ক্ষমা চাচ্ছি। আমরা চীনকে ভালোবাসি। সেখানে খেলতে পেরে আমাদের ভালো লাগে।

এ ছাড়া কাইরি আরভিং ও স্টিফেন কারির মতো তারকারাও আমেরিকার সমালোচনায় মুখর থাকলেও চীনের বিষয়ে বরাবরই এড়িয়ে চলেন।

২০২১ সালে একই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন ডব্লিউডব্লিউই সুপারস্টার জন সিনা। ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস ৯’ সিনেমার প্রচারে গিয়ে তিনি তাইওয়ানকে একটি ‘দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। চীনের আপত্তির মুখে সিনাও পরবর্তীতে ম্যান্ডারিন ভাষায় একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে ক্ষমা চান।

গত বছর টেনিস তারকা টেলর টাউনসেন্ডও শেনজেনে অনুষ্ঠিত বিলি জিন কিং কাপের সময় পরিবেশিত খাবার নিয়ে সমালোচনা করায় চীনা দর্শকদের রোষানলে পড়েন এবং পরে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বাধ্য হন।

বিশ্লেষকদের মতে, হংকংয়ের মানুষের স্বাধীনতা পাওয়ার অধিকার রয়েছে কিংবা তাইওয়ান একটি স্বাধীন দেশ—এসব সত্য বলার জন্য কোনো ক্রীড়াবিদের ক্ষমা চাওয়ার কথা নয়। মাও সেতুং যে একজন স্বৈরশাসক ছিলেন, ইতিহাস সেটাই বলে।

কিন্তু সমস্যা হলো, এসব ক্ষেত্রে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে এই তারকারা আদতে কতটা সুবিধাবাদী। চীনের বিশাল ও লোভনীয় বাজার হারানোর ভয়ে তারা নিজেদের নৈতিক অবস্থান বিসর্জন দিতে একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।

নিজেদের দেশে বা পশ্চিমা বিশ্বে স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি থাকে না বলেই তারা সেখানে খুব সহজেই প্রতিবাদ করতে পারেন। কিন্তু যেখানে বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত এবং আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে, সেখানেই তারা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ভয়ে নতি স্বীকার করেন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মোহাম্মদ আলী

ক্রীড়া সংবাদদাতা

খেলাধুলা বিভাগের বিশেষ সংবাদদাতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ