বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

৫ বছরে ফল আমদানি কমেছে ২৯ শতাংশ, দ্বিগুণ বেড়েছে শুল্ক আয়

৫ বছরে ফল আমদানি কমেছে ২৯ শতাংশ, দ্বিগুণ বেড়েছে শুল্ক আয়...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪৬ পিএমসর্বশেষ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪৬ পিএম
৫ বছরে ফল আমদানি কমেছে ২৯ শতাংশ, দ্বিগুণ বেড়েছে শুল্ক আয়

দেশে আঙুর, আপেল, কমলার মতো তাজা ফল আমদানি গত পাঁচ বছরে কমেছে প্রায় ২৯ শতাংশ। অথচ এ খাত থেকে সরকারের শুল্ক আয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফল আমদানি থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা আয় করেছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে ফলের ওপর শুল্ক কমানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)।

কমিশনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেসরকারি আমদানিকারকেরা ৫ লাখ ৭০ হাজার টন তাজা ফল আমদানি করেছেন। এর বেশিরভাগই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না। পাঁচ বছর আগে, অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় এ আমদানি ২৯ শতাংশ কম।

আমদানি করা ফলের চড়া দাম নিয়ে জনমনে অসন্তোষের মধ্যে এ বিশ্লেষণ করেছে কমিশন।

আমদানি তুলনামূলক বেশি কমেছে আপেল ও কমলার।

এ বছর ডেঙ্গু রোগী বেড়ে যাওয়ায় কিছু ফলের চাহিদা বেড়েছে। ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীদের প্রায়ই বেশি তরল পান করার পাশাপাশি ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ কমলা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এদিকে কয়েকবছর ধরে চলা মূল্যস্ফীতিতে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ফলে তাদের পক্ষে ফল কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুই বছর আগে ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি আপেল ২৫০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হতো।

গতকাল প্রতি কেজি আপেল কিনতে ক্রেতাদের গুণতে হয়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

আপেল, আঙুর, নাশপাতি, কমলা, কমলা জাতীয় ম্যান্ডারিনসহ বিভিন্ন ফল আমদানিতে শুল্ক ও করের মোট হার প্রায় ৮৯ শতাংশ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে কমিশনে বলেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৮ লাখ টন তাজা ফল আমদানি করেছিল। সে সময় শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কসহ আমদানি পর্যায়ের অন্যান্য কর মিলিয়ে মোট করের হার ছিল ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে শুল্ক বাড়াতে শুরু করলে ফলের আমদানি কমতে থাকে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ফল আমদানিতে মোট শুল্ক ও করের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশে।

২০২৩ সালে ডলার সংকট দেখা দেওয়ার পর শুল্ক বাড়ানোর পাশাপাশি ফল আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে শতভাগ নগদ মার্জিন আরোপ করে সরকার। ডলার সাশ্রয়ে অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিরুৎসাহিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

এখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ফল আমদানিতে এলসি খোলার ক্ষেত্রে নগদ মার্জিনের বাধ্যবাধকতা তুলে নিয়েছে।

ফল আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর সময়েই বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে, বিশেষ করে মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে।

বিটিটিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ৮০ পয়সা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ৪৩ শতাংশ বেড়ে ১২১ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়ায়।

শুল্ক বৃদ্ধি ও টাকার অবমূল্যায়নের ফলে তাজা ফলের দাম সামগ্রিকভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, খুচরা বিক্রেতারা পাইকারদের চেয়ে বেশি মুনাফা রাখছেন।

বিটিটিসি বলেছে, আপেল, কমলা, আঙুর, নাশপাতি ও ডালিমের কোনো বাণিজ্যিক উৎপাদন বাংলাদেশে নেই। ফলে এসব ফলের চাহিদা মেটাতে পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়।

কমিশনের মতে, এসব ফলের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে দেশীয় উদ্যানতাত্ত্বিক শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার যুক্তি নেই। কারণ দেশে এসব ফলের বাণিজ্যিক উৎপাদন না থাকলেও আমদানি কমে গেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আপেল, কমলা ও আঙুর আমদানিতে শুল্কের হার তুলনা করে বিটিটিসি দেখেছে, তাজা ফল আমদানিতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শুল্ক সবচেয়ে বেশি। সবচেয়ে কম নেপালে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় তাজা ফলকে বিলাসপণ্যের মতো বিবেচনা করে কর আরোপে বাজারে কৃত্রিমভাবে দামের অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে পুষ্টিকর এসব খাবার।

তাজা ফলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে রাখা, পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আপেল, কমলা, ম্যান্ডারিন, আঙুর, নাশপাতি ও ডালিমের সম্পূরক শুল্ক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বিটিটিসি। কারণ দেশে এসব ফলের বাণিজ্যিক উৎপাদন নেই।

কমিশনের ধারণা, আমদানি শুল্ক কমানো হলে খুচরা বাজারে ফলের দাম কমবে, চাহিদা বাড়বে এবং আমদানির পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত সরকারের মোট রাজস্ব আয় বাড়তে পারে।

বিটিটিসি বলেছে, মোট শুল্কের হার কমিয়ে ৮৯ শতাংশে নামানো হলে এবং ফল আমদানি বেড়ে ৮ লাখ ২০ হাজার টনে পৌঁছালে এনবিআর ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি শুল্ক আদায় করতে পারবে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘উচ্চ আমদানি শুল্কের কারণে সরকার বেশি রাজস্ব পাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ফলের দাম বেড়ে গেছে। ফলে অনেক মানুষ পুষ্টিকর ফল খাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ফলসহ সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সফিকুজ্জামান আরও বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ফলের দাম সবচেয়ে বেশি বলে মনে হয়। কিন্তু ফল জনস্বাস্থ্যের অংশ। মানুষ দেশি ফল খাবেন, নাকি আমদানি করা ফল, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তাদের থাকা উচিত। রাজস্ব আদায়ের জন্য কর্তৃপক্ষের বিকল্প পথ বিবেচনা করা দরকার।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ