শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
১৬ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

রাজারহাটের ৩ কলেজে পাশ করেনি কেউ

রাজারহাটের ৩ কলেজে পাশ করেনি কেউ...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩২ পিএমসর্বশেষ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৩২ পিএম
রাজারহাটের ৩ কলেজে পাশ করেনি কেউ

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থায় চরম বিপর্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৭ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাশ করতে পারেনি।

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুরের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সিঙ্গার ডাবরীহাট কলেজ, সিংগার ডাবড়ী হাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যথাক্রমে ১০, ৬ ও ১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।

উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সিংগার ডাবড়ী হাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬২ সালের ১ জানুয়ারি। দীর্ঘদিনের পুরোনো এ প্রতিষ্ঠানেও শিক্ষার বেহাল চিত্র দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল ইসলাম সরকার জানান, ২০২৫ সালে ১০ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাশ করেনি। ২০২৩ ও ২০২২ সালেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী পাশ করতে পারেনি।

অন্যদিকে, রাজারহাট উপজেলার পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের চিত্রও উদ্বেগজনক। প্রতিষ্ঠানটি আগে পাঙ্গারানী লক্ষ্মীপ্রিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচিত ছিল। ১৯৩৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১০ সালে কলেজ শাখার পাঠদানের অনুমতি পায়।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ তুহিন পাটোয়ারী বলেন, কলেজ শাখায় শিক্ষক নেই, শিক্ষার্থীও নেই। এবারের এইচএসসি ব্যাচে ২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একজন ফরম পূরণ করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। বাকিদের কেউ গার্মেন্টসে চাকরি করতে ঢাকায় থাকে, আবার অনেক মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। এভাবে কেউ কলেজে আসতে চায় না।

তিনি বলেন, গতবার একজন পরীক্ষা দিয়ে একজনই পাশ করেছিল। বিগত বছরগুলোতেও দু-একজন করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এবার একাদশ শ্রেণিতে ১০ জন এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০ জন ভর্তি আছে। কমিটির মাধ্যমে ২০ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বেতন না থাকায় তারা কলেজে আসতে চান না। শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত আসে না।

উপজেলার আরেক প্রতিষ্ঠান সিঙ্গার ডাবরীহাট কলেজেও ফলাফলের চিত্র একই। চলতি বছর ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাশ করতে পারেননি। ২০২৪ সালেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো পরীক্ষার্থী পাশ করেনি।

কলেজগুলোর এমন ফল বিপর্যয় ও পাঠদানের অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও দায়িত্বের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি উঠে এসেছে।

রাজারহাট উপজেলা সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, প্রশাসন যেভাবে ব্যবস্থা নেবে, আমরা সেভাবেই পদক্ষেপ নেব।

কুড়িগ্রাম জেলা সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকী জানান, তারা সাধারণ মাধ্যমিক শাখার কার্যক্রম দেখভাল করেন। উচ্চমাধ্যমিক শাখা সরাসরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে। এ কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে তারা বিস্তারিত অবগত নন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ