রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
১৬ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

বলাৎকার ও ধর্ষণ নিয়ে যে হুঁশিয়ারি দিলেন ডিআইজি কুদ্দুছ

বলাৎকার ও ধর্ষণ নিয়ে যে হুঁশিয়ারি দিলেন ডিআইজি কুদ্দুছ...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৬:৩৩ পিএমসর্বশেষ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৬:৩৩ পিএম
বলাৎকার ও ধর্ষণ নিয়ে যে হুঁশিয়ারি দিলেন ডিআইজি কুদ্দুছ

ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধের দায় কখনই ভুক্তভোগীর নয়, এই দায় সম্পূর্ণভাবে অপরাধীর। যে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়ে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়, তার বাকি জীবন নরক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়। এই ট্রমা বা ভয় আমরা কী দিয়ে কাটাব? আমরা আইনের শতভাগ প্রয়োগ ঘটিয়ে এসব অপরাধীর উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

শনিবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সামাজিক অপরাধ দমন বিষয়ক এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। কক্সবাজার জেলা পুলিশ এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সমাজে শিশু ও কিশোর অপরাধের নতুন এবং আশঙ্কাজনক প্রবণতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিআইজি বলেন, আজকাল একটি নতুন বিষয় দেখা যাচ্ছে, যেখানে ছেলে শিশুরাও বলাৎকার ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এর চেয়ে নোংরামি ও নষ্টামি আর হতে পারে না। আমরা দেখেছি, এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষকরা। যারা সমাজে ধর্মের আলো ছড়াবেন, তাদের সেই আলো আজ অধর্মের অন্ধকারে মিশে যাচ্ছে। এই পচা-গলা ও অন্ধ সমাজ আমরা চাই না। নিজেদের শোধরাতে হবে, ভালো হতে হবে। আপনি আপনার ছাত্রদের বা সন্তানদের কী শিক্ষা দিচ্ছেন, তা ভাবার সময় এসেছে।

কিশোর গ্যাং ও মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং বলে এই রেঞ্জে কিচ্ছু থাকবে না। যারা ছিনতাই বা মাদকে জড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কিশোররা যাতে বিভ্রান্ত হয়ে অন্ধকার চোরাগলিতে হারিয়ে না যায় বা ইভটিজার না হয়ে ওঠে, সেজন্য আমাদের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে। সন্ধ্যার পর স্কুল বা কলেজপড়ুয়া কোনো শিক্ষার্থীকে অকারণে রাস্তায় আড্ডা দিতে দেখলে তাদের গ্রেফতার করা হবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদেরও জবাবদিহির আওতায় এনে প্রশ্ন করা হবে—কেন আপনার সন্তান সন্ধ্যার পর বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে?

অঞ্চলটিতে অপরাধ দমন ও মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের সার্বিক সাফল্য তুলে ধরে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি জানান, যোগদানের গত তিন মাসে আমাদের পুরো রেঞ্জে (শুধু কক্সবাজার নয়, ১১টি জেলায়) মাদক উদ্ধারের পরিমাণ দুই থেকে তিনগুণে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি আসামি গ্রেফতার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় চারগুণ। গত তিন মাসে এই রেঞ্জ থেকে মোট ৬০ হাজার আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

সমাবেশে উপস্থিত স্থানীয় সুশীল সমাজের বিবেকের কাছে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন রেখে ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান। বক্তব্য দেন- পৌর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মাবুদ, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান এবং জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, কক্সবাজার শহরে বহুমাত্রিক অপরাধ সংঘটিত হয়। অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ সম্প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ