সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

টোলের নামে ৬ পয়েন্টে কোটি টাকার চাঁদাবাজি

টোলের নামে ৬ পয়েন্টে কোটি টাকার চাঁদাবাজি...

স
সুমিত রয়· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৫:১১ এএমসর্বশেষ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৫:১১ এএম
টোলের নামে ৬ পয়েন্টে কোটি টাকার চাঁদাবাজি

সিটি করপোরেশন আর পৌরসভার নামে দক্ষিণাঞ্চলের ৬ পয়েন্টে কোটি টাকার চাঁদাবাজি চলছে। রাজধানীসহ দেশের যে কোনো স্থান থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত যাওয়া যাত্রীবাহী বাস থেকে ওঠানো হয় এই টাকা। নিয়মানুযায়ী সিটি করপোরেশন কিংবা পৌরসভার নিয়ন্ত্রণাধীন টার্মিনালে অবস্থানের পাশাপাশি যাত্রী ওঠানামা করলেই কেবল আদায় করা যাবে রাজস্ব। কিন্তু তা না মেনে মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী বাসগুলো থেকে অবৈধ টোলবাজি চলছে। এমনকি বাসটার্মিনাল নেই এমন পৌরসভার নামেও নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেওয়া হচ্ছে যাত্রীবাহী বাস থেকে। প্রতিদিন এভাবে গড়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন গণপরিবহণের মালিক ও শ্রমিকরা। মাসে যার পরিমাণ দাঁড়ায় সোয়া ৮ কোটি টাকারও বেশি।

কুয়াকাটা-কক্সবাজার রুটে নিয়মিত যাত্রী নিয়ে চলাচল করা একটি পরিবহণ কোম্পানির বাস ড্রাইভার মোনাব্বের মোল্লা বলেন, ‘কক্সবাজার থেকে ঢাকা হয়ে বরিশাল পর্যন্ত আসতে একাধিক সিটি করপোরেশন আর পৌরসভা পেরুতে হয়। ৬৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথের কোথাও সিটি কিংবা পৌরসভার নামে টোল দিতে হয় না। অথচ বরিশাল থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত যেতে ৬ পয়েন্টে টোলের নামে চাঁদা তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে কেবল বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকা পার হতে দুই পয়েন্টে দিতে হয় টাকা।’ নাম-পরিচয় না প্রকাশের শর্তে ঢাকা-কুয়াকাটা রুটে চলাচলকারী গ্রিনলাইন পরিবহণের একজন চালক বলেন, ‘বরিশালের নথুল্লাবাদ ও রূপাতলী বাসটার্মিনাল এলাকায় টার্মিনাল টোলের নামে ৬০ ও ৫০ টাকা করে ১১০ টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া পটুয়াখালীতে ১০০, বরগুনার আমতলীতে ১০০, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৫০ এবং কুয়াকাটায় ১০০ টাকা পৌর টোল দিতে হয়। অথচ এসব পৌর এলাকার মধ্যে একমাত্র কুয়াকাটা ছাড়া আর কোথাও টার্মিনাল ব্যবহার করে না আমাদের বাস।

ঢাকা-বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে চলাচল করা পরিবহণের মালিক শাহাদাত হোসাইন লিটন বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী কোনো বাস পৌরসভা কিংবা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বাসটার্মিনাল ব্যবহার করলেই কেবল সিটি কিংবা পৌর টোল দিতে হয়। আমাদের বাসগুলো সরাসরি মহাসড়ক ধরে চলাচল করে। বাস টার্মিনাল ব্যবহার করে না। কোথাও যদি যাত্রী নামানোর প্রয়োজন হয়, তাও মহাসড়কেই গতি কমিয়ে যাত্রী নামান চালকরা। তারপরও টোলের নামে বিপুল অর্থ কেন নেওয়া হয়, এর উত্তর নেই কারও কাছে।

আরেক পরিবহণ মালিক মিজানুর রহমান বলেন, ‘একেকটি বাস থেকে আসা-যাওয়ায় ৯২০ টাকা করে নেওয়া হয় টোল। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা-কুয়াকাটা রুটে এখন প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার বাস চলাচল করে। হিসাব করে দেখুন দৈনিক কত টাকা নেন তারা। সবচেয়ে অবাক বিষয় হলো, আমতলীতে কোনো বাসটার্মিনাল নেই। তারপরও টার্মিনাল টোলের নামে আদায় করা হয় টাকা। সব পৌরসভা কিন্তু টোল নেয় না। বরিশালের গৌরনদী, উজিরপুর, বাকেরগঞ্জে পৌরসভা থাকলেও কোনো টোল নেয় না সংশ্লিষ্ট পৌরসভাগুলোর কর্তৃপক্ষ।

টার্মিনাল ব্যবহার না করা সত্ত্বেও এভাবে টোল আদায় বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) রূম্পা সিকদার বলেন, ‘নগরীর দুটি বাসটার্মিনাল লিজ দেওয়া হয়েছে। যেসব বাস টার্মিনাল ব্যবহার করবে, তাদের নির্দিষ্ট অঙ্কের রাজস্ব দিতে হবে। তবে মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী বাস থেকে টোল আদায়ের সুযোগ নেই।’ আমতলী পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘মহাসড়ক ধরে চলাচলকারী যানবাহন থেকে পৌর টোলের নামে টাকা আদায় বন্ধে আমরা গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছি। তারপরও কেউ টাকা আদায় করলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।’ কলাপাড়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা কাব্য লাল চক্রবর্তী বলেন, ‘পৌরসভার পক্ষ থেকে বাসটার্মিনাল লিজ দেওয়া হয়েছে। তবে মহাসড়ক কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
স

সুমিত রয়

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ