মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ফেলে দেয় রেললাইনে, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ফেলে দেয় রেললাইনে, যুবকের মৃত্যুদণ্ড...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৬ পিএমসর্বশেষ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৬ পিএম
ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ফেলে দেয় রেললাইনে, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ রেললাইনে ফেলে রাখার মামলায় রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসেইন মোহাম্মদ ফজলুল বারী এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত বিন সাজ্জাদ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকার আক্তারের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ট্রেনে পঞ্চগড় যাওয়ার পথে দিনাজপুর রেলস্টেশনে ভুক্তভোগী ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় রিফাতের। পরে নানা কথাবার্তার একপর্যায়ে ওই তরুণীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তাকে আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রেলস্টেশনের কাছে একটি সুপারির বাগানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এরপর ওই তরুণী ঘটনাটি ফাঁস করার কথা বললে আসামি রিফাত ইট ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তরুণীর মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহের উদ্দেশ্যে তার লাশ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে পঞ্চগড়-দিনাজপুর রেললাইনের কিসমত স্টেশনের নিকটবর্তী এলাকায় রেললাইনের উপর ফেলে রাখে। পরবর্তী সময়ে রাতের একটি ট্রেনে কাটা পড়ে তরুণীর লাশ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।

এরপর ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি সকালে পুলিশ তার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে। হত্যাকাণ্ডের পরদিন লাশ শনাক্ত না হলেও পুলিশ প্রথমে ইউডি মামলা দায়ের করে।

এদিকে একই বছরের ৮ মার্চ আটোয়ারী পল্লী বিদ্যুৎ মোড় এলাকা থেকে একটি ইজিবাইক চুরির ঘটনায় স্থানীয় লোকজন রিফাতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ সময় পুলিশ রিফাতের মোবাইল ফোনে কিছু ছবি ও ভিডিও দেখতে পেয়ে পুলিশের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রিফাত ওই তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করে।

এরপর আটোয়ারী থানার এসআই (উপপরিদর্শক) আরশাদুল হক বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মোট ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে আদালত সোমবার এ রায় প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খলিলুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটকের পর আসামির স্বীকারোক্তি ও সব তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ফাঁসির রায় দিয়েছেন।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ