সকালে ঘুম থেকে উঠেই কাজের শুরু। নাশতা তৈরি, ঘর গোছানো, কাপড় ধোয়া, বাজারের হিসাব, সন্তানদের দেখভাল, একটার পর একটা দায়িত্ব। পরিবারের সবাই যখন নিজের কাজে ব্যস্ত, তখনো তার সংসারের কাজ শেষ হয় না।
অথচ দিন শেষে প্রশ্ন জোটে, ‘সারাদিন বাসায় থেকে কী করো?’ সংসারের দায়িত্ব যারা সামলান, তাদের কাছে প্রশ্নটি নিশ্চয়ই বেশ পরিচিত। তাদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি দিতেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর ৩ নভেম্বর পালিত হয় জাতীয় গৃহিণী দিবস। দিবসটি যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় গৃহস্থালি ব্যবস্থাপনা দিবস নামেও পরিচিত।
দিনটির মূল উদ্দেশ্য হলো, যারা সংসার সামলান তাদের শ্রমকে তুলে ধরা। কারণ, ঘরের কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। অফিসের মতো ছুটি নেই, কাজের তালিকাও ছোট হয় না। বরং পরিবারের সদস্য যত বেশি, দায়িত্বের তালিকাও তত দীর্ঘ।
অনেকের ধারণা, যারা বাইরে চাকরি করেন না, তাদের হাতে বুঝি অফুরন্ত অবসর। ইচ্ছেমতো ঘুমানো, টেলিভিশন দেখা আর নিজের যত্ন নেওয়াই তাদের কাজ। কিন্তু একটি সংসার সামলানোর অভিজ্ঞতা যাদের আছে, তারা জানেন, বাস্তবতা কতটা আলাদা। ঘর পরিষ্কার রাখা, রান্না করা, বাজার করা, সন্তানদের পড়ালেখা ও অন্যান্য প্রয়োজনের খেয়াল রাখা, সব মিলিয়ে এটি আসলে বিরামহীন এক কর্মযজ্ঞ।
কর্মজীবননির্ভর সমাজে ঘরের কাজকে অনেক সময় পেশাগত কাজের মতো গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ একটি পরিবারকে সচল রাখতে এই কাজগুলোর প্রতিটিই জরুরি।
গৃহিণী দিবসে যারা সংসার সামলান, তারা এক দিনের জন্য হলেও কাজ থেকে ছুটি নিতে পারেন। প্রতিদিনের রান্না, কাপড় ধোয়া কিংবা ঘর গোছানোর দায়িত্ব অন্যদের হাতে ছেড়ে দিন। নিজের পছন্দমতো কিছু করুন। বই পড়তে পারেন, পছন্দের কোনো সিনেমা দেখতে পারেন। কিংবা এক কাপ কফি নিয়ে নিশ্চিন্তে বসে থাকতে পারেন। কারণ, সারা বছর যিনি সবার কথা ভাবেন, তারও নিজের কথা ভাবার অধিকার আছে।
জাতীয় গৃহিণী দিবসের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে দিবসটির প্রচলন শুরু হয়। ২০০৫ সালে গৃহিণীরা অনলাইনে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও সংসার সামলানোর নানা পরামর্শ ভাগাভাগি করতে শুরু করেন। এতে তাদের কাজ নিয়ে আলোচনা বাড়ে। তবে বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে মাত্র একটি দিন গৃহিণীদের জন্য বরাদ্দ রাখলে চলবে না। কারণ, সংসারের কাজ তো বছরে এক দিনে শেষ হয় না।
আর যারা মনে করেন, ঘরে থেকে সংসার সামলানো খুব সহজ, তারা এক দিন সব দায়িত্ব নিজের হাতে নিয়ে দেখুন। পরদিন হয়তো আর প্রশ্ন করবেন না, ‘সারাদিন বাসায় থেকে কী করো?



