মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

মেয়াদ শেষের পরও হলে জিম সরঞ্জাম দিলো রাকসু, প্রশাসনের আপত্তি

মেয়াদ শেষের পরও হলে জিম সরঞ্জাম দিলো রাকসু, প্রশাসনের আপত্তি...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৪৯ পিএমসর্বশেষ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৪৯ পিএম
মেয়াদ শেষের পরও হলে জিম সরঞ্জাম দিলো রাকসু, প্রশাসনের আপত্তি

গত সপ্তাহে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিভিন্ন আবাসিক হলে জিমনেসিয়ামের সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় আপত্তি জানিয়েছে।

প্রশাসন বলেছে, রাকসু ও হল সংসদগুলোর মেয়াদ ২৬ অক্টোবর শেষ হয়েছে। ফলে ওই তারিখের পর তাদের যেকোনো কার্যক্রম অননুমোদিত।

তবে রাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার ও সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক সালমান সাব্বির বলছেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর প্রশাসকের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এতে বলা হয়, রাকসু বিভিন্ন আবাসিক হলের হল সংসদের মাধ্যমে জিমনেসিয়ামের সরঞ্জাম বিতরণ করছে এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করছে—এমন খবর ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।

প্রশাসন এসব খবরকে ‘বিভ্রান্তিকর’ উল্লেখ করে জানায়, রাকসু ও হল সংসদগুলোর মেয়াদ ২৬ অক্টোবর শেষ হয়েছে। তাই ওই তারিখের পর তাদের নামে পরিচালিত যেকোনো কার্যক্রম নিয়মের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোনো ছাত্রসংগঠন রাকসুর নাম ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা অননুমোদিত বলে বিবেচিত হবে। রাকসু ও হল সংসদগুলোর নাম ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকতে সব ছাত্রসংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

প্রশাসনের বক্তব্যের জবাবে সালাহউদ্দিন আম্মার জানান, রাকসু সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ৩০ সেপ্টেম্বর, আর তারা বাজেট থেকে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পান ২১ অক্টোবর।

তিনি বলেন, ‘১১টি ছাত্র আবাসিক হল এবং ছাত্রীদের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়ামের জন্য সরঞ্জামের অর্ডার দেওয়া ও সেগুলো নিয়ে আসতে সময় লেগেছে। ফলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নেও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘তার মানে কী? এখন আর কাজগুলো করা যাবে না? অধিবেশনে অনুমোদিত অন্তত এক ডজন উদ্যোগের কাজ এখনো চলমান। রাকসুর কি সেগুলো শেষ করা উচিত না?

সালমান সাব্বির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমোদন নিয়েই সংসদের হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছিল। উপাচার্য রাকসুর সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এটি নতুন কিছু নয়। কয়েক মাস ধরেই এর প্রক্রিয়া চলছে। বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগছে কেবল। আগামী দিনগুলোতে এ ধরনের আরও কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আশা করি, ভবিষ্যতে প্রশাসনের কেউ এমন বক্তব্য দেবেন না, যা তাদের নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ক্ষুণ্ন করতে পারে।

৩৫ বছর বিরতির পর গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ওই বছরের ২৬ অক্টোবর শপথ নেন। সে অনুযায়ী, তাদের এক বছরের মেয়াদ চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর শেষ হয়েছে। তবে রাকসু সংসদের অধিবেশনগুলোতে অনুমোদিত বেশ কয়েকটি উদ্যোগের বাস্তবায়ন এখনো চলছে।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ