বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
১৯শে কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

বাংলাদেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে: এইচআরডব্লিউ

বাংলাদেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে: এইচআরডব্লিউ...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৭:২১ পিএমসর্বশেষ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৭:২১ পিএম
বাংলাদেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে: এইচআরডব্লিউ

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

আজ বুধবার এক প্রতিবেদনে এ কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানধাবিকার সংস্থাটি।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, ‘শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া যাবে না। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়াও মানবাধিকার লঙ্ঘন। এসব উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে স্বীকৃত মতপ্রকাশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতার পরিপন্থী।

এ ধরনের ঘটনা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণে আগের সরকারগুলোর নেওয়া উদ্যোগের পুনরাবৃত্তি বলে মনে করে সংস্থাটি।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, ‘বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক বিতর্কের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এ ধরনের আলোচনা নিয়ে ভয় পাওয়ার কথা শুধু স্বৈরশাসকদের, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গঠিত কোনো সরকারের নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতের দমন-পীড়নের অধ্যায় পেছনে ফেলে বাংলাদেশের সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত। ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলের অবস্থান বদল হলেই যেন আগের দমন-পীড়নের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে চাকরিচ্যুত, সাময়িক বরখাস্ত ও পাঠদানে নিষেধাজ্ঞা। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে সংঘটিত সহিংসতায় এসব শিক্ষক জড়িত ছিলেন। ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।

এতে আরও বলা হয়, ‘অন্য কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পক্ষে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা এবং ইসলামি পোশাক পরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের সদস্য বা সমর্থক বলে অভিযোগ রয়েছে, এমন শত শত শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে তারা শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এসব ঘটনা খতিয়ে দেখতে শাস্তির মুখে পড়া কয়েকজন শিক্ষকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে এইচআরডব্লিউ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আদান-প্রদান করা চিঠিপত্রও পর্যালোচনা করেছে। পাশাপাশি টেলিভিশনে প্রচারিত একটি আলোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বিশ্লেষণ করেছে।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বহিষ্কার, পরীক্ষার সনদ বাতিল এবং শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘটনাও জানতে পেরেছে সংস্থাটি।

এইচআরডব্লিউর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের ২০টির বেশি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, ‘আগের সরকারকে সমর্থন করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা প্রমাণ করবে, এ দেশে মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত নয়।

‘বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া উচিত এমন জায়গা, যেখানে সবাই স্বাধীনভাবে নিজেদের মতপ্রকাশ করতে পারবেন। সেখানে বর্তমান সরকারকে সমর্থন করতে কাউকে বাধ্য করা উচিত নয়’, বলেন তিনি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ