টেস্ট ক্রিকেটে এক দিনের গল্প দিয়ে পরের দিনের চিত্র আঁকা কঠিন। সকালে যে দল চালকের আসনে, বিকেলেই তাদের সামনে অপেক্ষা করতে পারে কঠিন পরীক্ষা। সিলেট টেস্টের প্রথম দিন শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম অবশ্য বেশ আত্মবিশ্বাসী। তার চোখ এখন বড় সংগ্রহে—৩৫০ থেকে ৪০০ রান।
অন্যদিকে বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ মনে করিয়ে দিলেন, টেস্ট ক্রিকেটে আগাম হিসাব মেলানো যায় না। উইকহ্যামের বড় সংগ্রহের স্বপ্ন শুনে তাই খুব একটা বিচলিত নন তিনি। বরং জানালেন, আজ তার অভিষেক হয়েছে একটু উত্তেজিত থাকবে এটাই স্বাভাবিক!
দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে উইকহ্যাম বলেন, ‘উইকেটের যে আচরণ, তাতে বড় সংগ্রহ গড়ে একবার ব্যাটিং করেই প্রতিপক্ষকে দুবার অলআউট করার সুযোগ নিতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তার ধারণা, সময়ের সঙ্গে উইকেটের অবস্থা আরও খারাপ হবে। তাই ৩৫০ বা ৪০০-এর বেশি রান করতে পারলে ম্যাচে জয়ের ভালো সুযোগ তৈরি হবে।
জবাবে তাসকিনের কথায় ছিল টেস্ট ক্রিকেটের চিরচেনা অনিশ্চয়তার সুর। উইকহ্যামের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য শুনে খুব একটা বিচলিত নন বাংলাদেশের এই পেসার।
তার কথায়, ‘ও খুব উচ্ছ্বসিত। আজই তার অভিষেক হয়েছে, অভিষেকে রানও পেয়েছে। তাই অনেক কিছুই বলতে পারে, এটা ঠিক আছে। কিন্তু কাল (শুক্রবার) খেলা শুরু হলে কী হবে,সেটা তো কেউ জানে না। এমনও হতে পারে, তারা ৪৫০ রান করে ফেলবে। আবার কাল এক ঘণ্টার মধ্যেই ৫০ রানে অলআউট হয়ে যেতে পারে। এটাই টেস্ট ক্রিকেটের মজা। নতুন এসেছে, ওর কথায় বেশি বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।
উইকহ্যামের কথায় আত্মবিশ্বাস থাকলেও প্রথম দিনের শুরুটা মোটেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ছিল না। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দলটি ২৭ রানেই হারায় তিন উইকেট। জন ক্যাম্পবেল ও ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল ভাইরাস জ্বরে ছিটকে যাওয়ায় ওপেনিংয়েও ছিল পরিবর্তন। সেই সুযোগে তাসকিন ও হাসান মাহমুদ শুরুতেই আঘাত হানেন। কিন্তু চতুর্থ উইকেটে জাঙ্গু ও উইকহ্যামের ১৩১ রানের জুটি ম্যাচের চেহারা পালটে দেয়। অভিষেকেই ১৪৫ বলে ৬১ রান করেন উইকহ্যাম।
অন্য প্রান্তে জাঙ্গু দিন শেষ করেন ১৭১ বলে ১১১ রানে অপরাজিত থেকে। জাস্টিন গ্রিভসের সঙ্গে তার অবিচ্ছিন্ন ৭৭ রানের জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় চার উইকেটে ২৩৫।
বাংলাদেশের জন্য হতাশার জায়গা, প্রথম সেশনে তিন উইকেট নেওয়ার পর আর প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামানো যায়নি। জাঙ্গুর ক্যাচও ফেলে বাংলাদেশ। তিন স্পিনার খেলিয়েও কোনো উইকেট পায়নি স্বাগতিকরা। চারটি উইকেটই ভাগ করে নিয়েছেন দুই পেসার তাসকিন ও হাসান।






