বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬
২০শে কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

জাতীয়

টেন্ডার নিয়ে বিরোধ: যুবদল নেতার চাপে কর্মস্থলে যান না স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

টেন্ডার নিয়ে বিরোধ: যুবদল নেতার চাপে কর্মস্থলে যান না স্বাস্থ্য কর্মকর্তা...

ম
মুনতাসির মাহমুদ· বার্তা সম্পাদক
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২১ পিএমসর্বশেষ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৮:২১ পিএম
টেন্ডার নিয়ে বিরোধ: যুবদল নেতার চাপে কর্মস্থলে যান না স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

পাবনার সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুপ্রভা রানীর বিরুদ্ধে দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে উপজেলা যুবদলের একটি অংশ। বিষয়টি নিয়ে তাকে হেনস্তা ও অবরুদ্ধ করারও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর কয়েক দিন ধরে তিনি কর্মস্থলে যাচ্ছেন না।

তবে যুবদল নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তারা কোনো বিশৃঙ্খলা করেননি। টেন্ডারে অনিয়মের বিষয়ে জানতে তারা হাসপাতালে গিয়েছিলেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আট লাখ টাকার একটি কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী ও রাসায়নিক বিকারক (রিএজেন্ট) সরবরাহের জন্য চারটি আলাদা প্যাকেজে এই কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এতে পাবনার বাইরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পেয়েছে। স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশ নেয়নি।

ডা. সুপ্রভা রানীর অভিযোগ, গত মঙ্গলবার সুজানগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী তার কার্যালয়ে ঢোকেন। তারা টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের জন্য তাকে চাপ দেন। দাবি মানার জন্য তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

ডা. সুপ্রভা বলেন, ‘তারা কেউই এই টেন্ডারের অংশীদার ছিলেন না। এরপরও তারা আমাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। আমি বোঝানোর চেষ্টা করলেও তারা মানতে চাননি। ই-জিপি টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়ম মেনে এই কাজ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবারের ওই ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে তিনি আর হাসপাতালে যাচ্ছেন না।

টি স্বাস্থ্য বিভাগের উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান ডা. সুপ্রভা।

তবে হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু। তিনি বলেন, ‘টেন্ডারে ব্যাপক অনিয়মের খবর পেয়ে আমরা বিষয়টি জানতে সেখানে গিয়েছিলাম। সেখানে কোনো ধরনের অসদাচরণ বা বিশৃঙ্খলা করা হয়নি।

পিন্টুর দাবি, ডা. সুপ্রভা রানী টেন্ডার কমিটিতে স্থানীয় কোনো চিকিৎসককে রাখেননি। তিনি ঝিনাইদহ থেকে সদস্য এনেছেন। স্থানীয় কোনো ঠিকাদার যাতে অংশ নিতে না পারেন, তিনি সেই ব্যবস্থা করেছিলেন।

এই যুবদল নেতা বলেন, ‘আমরা কেবল এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছি। আর এখন আমাদের বিরুদ্ধে অবরুদ্ধ করার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন গল্প বানানো হচ্ছে।

জানতে চাইলে সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, ওই ঘটনার পর থেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানসিকভাবে ট্রমার ভেতরে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এজন্য উনি অফিসে যেতে পারছেন না, বিষয়টি আমাদেরকে জানিয়েছেন। আমরা তাকে বলছি যে আপনি সুস্থ হয়ে তারপরে কাজে যোগ দিন।

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও ধরেননি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
ম

মুনতাসির মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক

নিউজরুম এডিটর, ডেইলি বরিশাল ডটকম। বার্তা বিভাগে অভিজ্ঞতা ৭ বছর।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ