শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
২২শে কার্তিক, ১৪৩৩

ডেইলি বরিশাল

দক্ষিণাঞ্চলের শীর্ষস্থানীয় ও বস্তুনিষ্ঠ দৈনিক পত্রিকা

সারাদেশ

ললিপপ খাওয়ায় ছাত্রীকে দরজা বন্ধ করে পেটালেন মাদ্রাসার সুপার

ললিপপ খাওয়ায় ছাত্রীকে দরজা বন্ধ করে পেটালেন মাদ্রাসার সুপার...

র
রাহুল হাসান· প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ পিএমসর্বশেষ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ললিপপ খাওয়ায় ছাত্রীকে দরজা বন্ধ করে পেটালেন মাদ্রাসার সুপার

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে টিফিনের সময় মাদ্রাসার কমনরুমে বসে ললিপপ খাওয়ায় শ্রাবন্তী খাতুন (১৪) নামের এক ছাত্রীকে দরজা বন্ধ করে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে সুপারসহ দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

উপজেলার দামোদরপুর কারামতিয়া দাখিল মাদ্রাসায় গত মঙ্গল ও বুধবার এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ওই ছাত্রীকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে তার পরিবার।

পরে বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন- দামোদরপুর কারামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার দেলোয়ার হোসেন ও সহকারী শিক্ষক আলেয়া খাতুন। আর শ্রাবন্তী ওই মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) টিফিনের সময় আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে শ্রাবন্তী কমনরুমে বসে ললিপপ খাচ্ছিল। এ সময় সহকারী শিক্ষক আলেয়া খাতুন তাকে বকাঝকা ও একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এরপর সে বাড়ি ফিরে গিয়ে তার মাকে বিষয়টি জানায়। এটি শিক্ষকের শাসন হিসেবে তার মা তাকে সান্ত্বনা দেন। পরদিন সকালে আবার মাদ্রাসায় এলে সুপার দেলোয়ার হোসেন শ্রাবন্তীকে একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে বেতের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। তারপর শ্রাবন্তী বাড়ি ফিরে তার মাকে বিষয়টি জানালে তার দাদা মগবুল মোল্লা মাদ্রাসায় যান বিষয়টি জানতে। মাদ্রাসার শিক্ষকরা ওই বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেন বলে উল্লেখ করা হয় অভিযোগপত্রে। ওই দিন বিকালে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

দামোদরপুর কারামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার দেলোয়ার হোসেন ওই ছাত্রীকে বেত্রাঘাত করার কথা স্বীকার করে বলেন, গত সপ্তাহে মাদ্রাসায় ললিপপ খাওয়ার ব্যাপারে সব ছাত্রছাত্রীকে নিষেধ করা হয়েছে। এটি জানার পরও শ্রাবন্তী নামের ওই ছাত্রী কমনরুমে বসে ললিপপ খায় এবং শিক্ষকদের এই আদেশকে তাচ্ছিল্য করে বিভিন্ন কথা বলে। এ জন্য ওই ছাত্রীকে শাসন করা হয়েছে।

একই ঘটনায় দুই দিন শাস্তি দেওয়া যায় কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আগের দিনের শাস্তির বিষয়টি তার জানা ছিল না। আমরা যা করেছি তা মাদ্রাসার শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য করেছি।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানান, এক ছাত্রীকে মারধরের ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

📢এই সংবাদটি শেয়ার করুন

📢 আপনিও হোন পাঠক সাংবাদিক!

আপনার এলাকার যেকোনো খবর, সমস্যা বা ভিডিও সরাসরি আমাদের নিউজ পোর্টালে জমা দিন

সংবাদ পাঠান ↗
র

রাহুল হাসান

প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ডেইলি বরিশাল। সাংবাদিকতায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ