লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও হায়দরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে পৌরসভা অংশের নর্দমা পর্যন্ত দুই কিলোমিটারসহ আরও তিনটি রাস্তা সংস্কার কাজের কার্যাদেশের ১০ মাস পার হতে চললেও প্রকল্পের কাজ মাত্র ৪ শতাংশ করে ফেলে রেখেছেন ঢাকার এক ঠিকাদার। এতে নির্ধারিত সময়ে (কার্যাদেশ হয় ২০২৬ সালে ৪ এপ্রিল এবং কাজ শেষ করা হবে ২০২৭ সালে ৪ এপ্রিল) নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের সংস্কারকাজে এমন ধীরগতিতে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। সাড়ে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পকাজে অগ্রগতিনিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
পৌরসভা কার্যালয় থেকে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এডিবি, এএফডি ও সরকারি অর্থায়নে হায়দরগঞ্জ সড়কে ১৯৬০ মিটার, উপজেলা পরিষদের ভেতরে পুকুরের চারদিকে ৩০০ মিটার, টিসি সড়কের প্রস্তাবিত পৌর শিশুপার্কের ৮৬০ মিটার ও মেস্তরী বাড়ীর ১০০ মিটার সড়কসহ মোট ৪টি সড়কে ১৬ কোটি ৫৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পৌরসভা। কাজের দায়িত্ব পেয়েছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস। ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল কাজটি উদ্ধোধন করেন স্থানীয় এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়া। কিন্তু ২০২৭ সালের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সংস্কার ও উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও ১০ মাস পার হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। প্রথম চুক্তির আর মাত্র ৫ মাস মেয়াদ আছে এই কাজের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে কাজের গতি অত্যন্ত হতাশাজনক। দীর্ঘদিন ধরে চলমান দুর্ভোগের কারণে ক্ষোভ বাড়ছে জনমনে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার না হওয়ায় এক দিকে যেমন যাতায়াতে সময় ও অর্থ অপচয় হচ্ছে, ব্যবসা- বাণিজ্যের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, প্রকল্পের কাজের ধীরগতির কারণে সড়কজুড়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে নানা দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও পথচারীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। খানাখন্দ, সড়কের বেহাল অবস্থা এবং নির্মাণকাজের ধীরগতিতে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রোগী বহনকারী যানবাহন, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
নতুনবাজার এলাকার ব্যাবসায়ী বিল্লাল হোসেন, মিন্টু ও জসিম উদ্দিনসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এক বছর সময়সীমার ১০ মাসই অতিবাহিত হতে চলছে। কাজের মাত্র ৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়। কাজের এমন ধীরগতি ৫-৬ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করালে তিন বছরে কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু আশ্বাসই দেন, কিন্তু দৃশ্যমান অগ্রগতি শূণ্য । কারণ নিয়মিত তদারকি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নেই এই পৌরসভায়।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসের মালিক দুলাল দে মোবাইল ফোনে বলেন, বিভিন্ন কারিগরি ও অর্থ সমস্যার কারণে কাজের অগ্রগতি কিছুটা ধীর হয়েছে। হায়দরগঞ্জ সড়কে আধা কিলো সড়কে ড্রেনের কাজ হয়, শিশুপার্কের রাস্তার কাজে বালু ফেলা হয়, উপজেলা পরিষদের ভেতরে পুকুরপাড়ে কাজ শুরু হয়নি এবং মেস্তরী বাড়ীর রাস্তা কিছু করা হয়। ডিসেম্বরে কাজ শুরু করব। নির্ধারিত সময়েই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।।
রায়পুর পৌর সভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাহামুদুন্নবি বলেন, প্রকল্পের কাজের ধীরগতির বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের গতি বাড়ানোর চিঠি দেয়া হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিরতির কারণে তদারকির করেও নির্ধারিত সময়ে ৫০ শতাংশ কাজের সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।






